ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণে লেবাননের দ্বিধা, চাপে ইসরাইল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২০:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৫১৩

চিত্রঃ হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে লেবানন ও ইসরাইলের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মধ্যে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এখন নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দিচ্ছে। একদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত হিজবুল্লাহকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করতে চাইছে, অন্যদিকে লেবানন এই প্রক্রিয়াকে ধীরে ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চায়।এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল বলে উল্লেখ করেছেন স্টিমসন সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রান্ডা স্লিম।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে এমন দুটি ভিন্ন গতির প্রক্রিয়া চলছে, যেগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। তার মতে, এই অমিলই ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্ম দিতে পারে। রান্ডা স্লিম বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে হিজবুল্লাহ একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যাদের সামরিক শক্তি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তাই তারা চায় অবিলম্বে এই সংগঠনের অস্ত্র সমর্পণ হোক। তবে লেবাননের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো, সাম্প্রদায়িক ভারসাম্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি এত সহজ নয়।

লেবাননের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে অবস্থান নিলেও তারা মনে করেন, এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমঝোতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব। কারণ হিজবুল্লাহ শুধু একটি সামরিক সংগঠন নয়, এটি লেবাননের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের অভ্যন্তরে এখনো এ বিষয়ে পূর্ণ রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠেনি। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের অবস্থান একে অপরের থেকে ভিন্ন।

বিশেষ করে শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে হিজবুল্লাহকে ঘিরে আবেগ ও সমর্থন এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের অভ্যন্তরে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। রান্ডা স্লিমের মতে, লেবাননের অনেক সাধারণ মানুষ হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে থাকলেও শিয়া সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এখনো এটিকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখে। তারা মনে করে, ভবিষ্যতে ইসরাইল যদি আবার লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে হিজবুল্লাহই হবে তাদের প্রধান প্রতিরক্ষা শক্তি।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে শিয়া জনগোষ্ঠীর অনেকেই ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, হিজবুল্লাহর সামরিক সিদ্ধান্তের কারণে লেবানন অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তবে সেই অসন্তোষ এখনো সংগঠনটির অস্ত্র সমর্পণের দাবিতে রূপ নেয়নি। কারণ নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তির প্রশ্ন অত্যন্ত সংবেদনশীল। লেবাননের মতো দুর্বল রাষ্ট্র কাঠামোর দেশে অনেকেই মনে করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর চেয়ে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বেশি কার্যকর। ফলে নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক নয়, নিরাপত্তা মনস্তত্ত্বের সঙ্গেও জড়িত।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে রান্ডা স্লিম বলেন, ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার কৌশলে অত্যন্ত দক্ষ। তার মতে, ইসরাইল প্রায়ই এমন প্রক্রিয়া তৈরি করে যেখানে আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর ফল আসে না। এতে সময় পার হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয় না। তিনি উদাহরণ হিসেবে ফিলিস্তিন ইস্যুর কথা উল্লেখ করেন। কয়েক দশক ধরে অসংখ্য বৈঠক, চুক্তি ও আলোচনা হলেও এখনো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। স্লিমের আশঙ্কা, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও একই ধরনের দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে লেবাননের স্থিতিশীলতা চায় বলে দাবি করে, বাস্তবে তাদের প্রধান মনোযোগ এখন ইরানকে ঘিরে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, হিজবুল্লাহ ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে লেবানন ইস্যুতে দ্রুত সমাধান চায়, তাহলে তাদের সরাসরি ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ ছাড়া পরিস্থিতির পরিবর্তন কঠিন হবে।

রান্ডা স্লিম মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হতে পারে। তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকায় লেবানন খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে দ্রুত কোনো অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নটি এখন শুধু লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, ইরানের প্রভাব, ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। তাই এই সংকটের সমাধান সহজ হবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে লেবাননে নতুন ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সীমান্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান বাস্তবতায় লেবাননের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা। কারণ দেশটি ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক বিভাজন ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্ন নতুন করে জাতীয় বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন সবসময়ই গভীরভাবে জড়িত। ফলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা যতই এগোক না কেন, বাস্তব সমাধানের পথ এখনো অনেক দূরে।

সূত্র: আল জাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণে লেবাননের দ্বিধা, চাপে ইসরাইল

Update Time : ০৯:২০:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মধ্যে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এখন নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দিচ্ছে। একদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত হিজবুল্লাহকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করতে চাইছে, অন্যদিকে লেবানন এই প্রক্রিয়াকে ধীরে ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চায়।এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল বলে উল্লেখ করেছেন স্টিমসন সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রান্ডা স্লিম।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে এমন দুটি ভিন্ন গতির প্রক্রিয়া চলছে, যেগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। তার মতে, এই অমিলই ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্ম দিতে পারে। রান্ডা স্লিম বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে হিজবুল্লাহ একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যাদের সামরিক শক্তি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তাই তারা চায় অবিলম্বে এই সংগঠনের অস্ত্র সমর্পণ হোক। তবে লেবাননের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো, সাম্প্রদায়িক ভারসাম্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি এত সহজ নয়।

লেবাননের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে অবস্থান নিলেও তারা মনে করেন, এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমঝোতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব। কারণ হিজবুল্লাহ শুধু একটি সামরিক সংগঠন নয়, এটি লেবাননের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের অভ্যন্তরে এখনো এ বিষয়ে পূর্ণ রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠেনি। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের অবস্থান একে অপরের থেকে ভিন্ন।

বিশেষ করে শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে হিজবুল্লাহকে ঘিরে আবেগ ও সমর্থন এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের অভ্যন্তরে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। রান্ডা স্লিমের মতে, লেবাননের অনেক সাধারণ মানুষ হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে থাকলেও শিয়া সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এখনো এটিকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখে। তারা মনে করে, ভবিষ্যতে ইসরাইল যদি আবার লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে হিজবুল্লাহই হবে তাদের প্রধান প্রতিরক্ষা শক্তি।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে শিয়া জনগোষ্ঠীর অনেকেই ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, হিজবুল্লাহর সামরিক সিদ্ধান্তের কারণে লেবানন অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তবে সেই অসন্তোষ এখনো সংগঠনটির অস্ত্র সমর্পণের দাবিতে রূপ নেয়নি। কারণ নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তির প্রশ্ন অত্যন্ত সংবেদনশীল। লেবাননের মতো দুর্বল রাষ্ট্র কাঠামোর দেশে অনেকেই মনে করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর চেয়ে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বেশি কার্যকর। ফলে নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক নয়, নিরাপত্তা মনস্তত্ত্বের সঙ্গেও জড়িত।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে রান্ডা স্লিম বলেন, ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার কৌশলে অত্যন্ত দক্ষ। তার মতে, ইসরাইল প্রায়ই এমন প্রক্রিয়া তৈরি করে যেখানে আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর ফল আসে না। এতে সময় পার হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয় না। তিনি উদাহরণ হিসেবে ফিলিস্তিন ইস্যুর কথা উল্লেখ করেন। কয়েক দশক ধরে অসংখ্য বৈঠক, চুক্তি ও আলোচনা হলেও এখনো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। স্লিমের আশঙ্কা, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও একই ধরনের দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে লেবাননের স্থিতিশীলতা চায় বলে দাবি করে, বাস্তবে তাদের প্রধান মনোযোগ এখন ইরানকে ঘিরে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, হিজবুল্লাহ ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে লেবানন ইস্যুতে দ্রুত সমাধান চায়, তাহলে তাদের সরাসরি ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ ছাড়া পরিস্থিতির পরিবর্তন কঠিন হবে।

রান্ডা স্লিম মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হতে পারে। তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকায় লেবানন খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে দ্রুত কোনো অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক বাস্তবতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নটি এখন শুধু লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, ইরানের প্রভাব, ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। তাই এই সংকটের সমাধান সহজ হবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে লেবাননে নতুন ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সীমান্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান বাস্তবতায় লেবাননের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা। কারণ দেশটি ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক বিভাজন ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্ন নতুন করে জাতীয় বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন সবসময়ই গভীরভাবে জড়িত। ফলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা যতই এগোক না কেন, বাস্তব সমাধানের পথ এখনো অনেক দূরে।

সূত্র: আল জাজিরা