ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের নতুন রেকর্ড মেসির Logo তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের Logo টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি শতশত পরিবার Logo ১৬৮ কন্টেইনার পণ্য অনলাইন নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস Logo প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ৫ বছরের কারাদণ্ড | নতুন আইন পাস Logo সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ Logo হঠাৎ তীব্র জ্বর? যেসব লক্ষণে বুঝবেন এটি সাধারণ ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু Logo রোবোসাব-২০২৬: বাংলাদেশের হয়ে লড়বে ডিআরএমসি দল Logo দুধ খেলেই কি হাড় শক্ত হয়? জানালেন অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ Logo জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের রহস্য কী? জানুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের রহস্য কী? জানুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

সুস্থ জীবনধারা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস জাপানিদের দীর্ঘায়ুর অন্যতম রহস্য।

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু মানুষের দেশ হিসেবে জাপানের নাম বহু বছর ধরেই আলোচনায়। দেশটিতে শতবর্ষ পার করেও সুস্থ, কর্মক্ষম ও সক্রিয় জীবনযাপন করেন এমন মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার নয়, বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুশৃঙ্খল জীবনধারার সম্মিলিত প্রভাব কাজ করে। তাই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের উদাহরণ হিসেবে জাপানিদের জীবনধারা বিশ্বজুড়ে গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

কেন দীর্ঘজীবী জাপানিরা?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে কয়েকটি অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
  • প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকা
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা

‘হারা হাচি বু’ নীতি: কম খাওয়ার অভ্যাস

জাপানিদের অন্যতম পরিচিত খাদ্যাভ্যাস হলো ‘হারা হাচি বু’। এই নীতির অর্থ হলো, পেট পুরোপুরি ভরার আগেই, অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ ভর্তি হওয়া পর্যন্ত খাওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে। ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি হজমও ভালো থাকে।

খাদ্যতালিকায় থাকে পুষ্টিকর খাবার

জাপানিদের প্রতিদিনের খাবারে থাকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর উপাদান। যেমন—

  • তেলযুক্ত সামুদ্রিক মাছ
  • সয়া-জাতীয় খাবার
  • সবুজ শাকসবজি
  • মিষ্টি আলু
  • সামুদ্রিক শৈবাল
  • গ্রিন টি

এসব খাবারে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ফারমেন্টেড খাবারের বিশেষ গুরুত্ব

জাপানি খাদ্যসংস্কৃতিতে গাঁজন করা বা ফারমেন্টেড খাবারের ব্যবহার অনেক বেশি। এগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়।

ফারমেন্টেড বাঁধাকপি

গাঁজন করা বাঁধাকপিতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

মিসো স্যুপ

ফারমেন্টেড সয়াবিন দিয়ে তৈরি মিসো স্যুপ জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার।

এর উপকারিতার মধ্যে রয়েছে—

  • ভালো মানের প্রোটিন
  • প্রোবায়োটিক
  • গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ
  • অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক

তবে এতে সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

উমেবোশি

জাপানি প্লাম গাঁজন করে তৈরি উমেবোশি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি খাবার। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোবায়োটিক হজমে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছেও সমাদৃত।

গ্রিন টি ও কুকিচা চায়ের জনপ্রিয়তা

জাপানে প্রতিদিন চা পান করা একটি সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে গ্রিন টি দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া কুকিচা নামে একটি বিশেষ ধরনের চা রয়েছে, যা চা গাছের ডাল ও কাণ্ড দিয়ে তৈরি করা হয়।

কুকিচা চায়ের বৈশিষ্ট্য—

  • সাধারণ গ্রিন টির তুলনায় কম ক্যাফিন
  • বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে
  • শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক হতে পারে
  • অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে

কুজু শিকড় নিয়েও চলছে গবেষণা

কুজু গাছের শিকড় থেকে তৈরি উপাদান জাপানি রান্নায় বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি মূলত স্যুপ ও সস ঘন করতে ব্যবহার করা হয়।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হজমের সমস্যা কমানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই নিশ্চিত উপকারিতা দাবি করার আগে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

শুধু খাবার নয়, জীবনধারাও গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘায়ুর রহস্য কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবারে সীমাবদ্ধ নয়। বরং কয়েকটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস একসঙ্গে অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর।

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য যা জরুরি—

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা
  • পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকা
  • অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • সুষম ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা

জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের রহস্য কোনো জাদুকরী খাবারে নয়, বরং প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে লুকিয়ে আছে। পরিমিত আহার, পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচন, ফারমেন্টেড খাবারের ব্যবহার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক সুস্থতার সমন্বয়ই তাদের দীর্ঘ ও কর্মক্ষম জীবনের অন্যতম ভিত্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে নিজের জীবনেও যুক্ত করতে পারলে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের নতুন রেকর্ড মেসির

জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের রহস্য কী? জানুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

Update Time : ০৮:১৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু মানুষের দেশ হিসেবে জাপানের নাম বহু বছর ধরেই আলোচনায়। দেশটিতে শতবর্ষ পার করেও সুস্থ, কর্মক্ষম ও সক্রিয় জীবনযাপন করেন এমন মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার নয়, বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত আহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুশৃঙ্খল জীবনধারার সম্মিলিত প্রভাব কাজ করে। তাই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের উদাহরণ হিসেবে জাপানিদের জীবনধারা বিশ্বজুড়ে গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

কেন দীর্ঘজীবী জাপানিরা?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে কয়েকটি অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
  • প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকা
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা

‘হারা হাচি বু’ নীতি: কম খাওয়ার অভ্যাস

জাপানিদের অন্যতম পরিচিত খাদ্যাভ্যাস হলো ‘হারা হাচি বু’। এই নীতির অর্থ হলো, পেট পুরোপুরি ভরার আগেই, অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ ভর্তি হওয়া পর্যন্ত খাওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে। ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি হজমও ভালো থাকে।

আরও পড়ুন  প্রতিদিন ১৫ মিনিট যোগচর্চা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন

খাদ্যতালিকায় থাকে পুষ্টিকর খাবার

জাপানিদের প্রতিদিনের খাবারে থাকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর উপাদান। যেমন—

  • তেলযুক্ত সামুদ্রিক মাছ
  • সয়া-জাতীয় খাবার
  • সবুজ শাকসবজি
  • মিষ্টি আলু
  • সামুদ্রিক শৈবাল
  • গ্রিন টি

এসব খাবারে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ফারমেন্টেড খাবারের বিশেষ গুরুত্ব

জাপানি খাদ্যসংস্কৃতিতে গাঁজন করা বা ফারমেন্টেড খাবারের ব্যবহার অনেক বেশি। এগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়।

ফারমেন্টেড বাঁধাকপি

গাঁজন করা বাঁধাকপিতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

মিসো স্যুপ

ফারমেন্টেড সয়াবিন দিয়ে তৈরি মিসো স্যুপ জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার।

এর উপকারিতার মধ্যে রয়েছে—

  • ভালো মানের প্রোটিন
  • প্রোবায়োটিক
  • গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ
  • অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক
আরও পড়ুন  মেহেদিতে ত্বকের ক্ষতি, মেহেদির লুকানো স্বাস্থ্যঝুঁকি

তবে এতে সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

উমেবোশি

জাপানি প্লাম গাঁজন করে তৈরি উমেবোশি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি খাবার। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোবায়োটিক হজমে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছেও সমাদৃত।

গ্রিন টি ও কুকিচা চায়ের জনপ্রিয়তা

জাপানে প্রতিদিন চা পান করা একটি সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে গ্রিন টি দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া কুকিচা নামে একটি বিশেষ ধরনের চা রয়েছে, যা চা গাছের ডাল ও কাণ্ড দিয়ে তৈরি করা হয়।

কুকিচা চায়ের বৈশিষ্ট্য—

  • সাধারণ গ্রিন টির তুলনায় কম ক্যাফিন
  • বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে
  • শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক হতে পারে
  • অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে

কুজু শিকড় নিয়েও চলছে গবেষণা

কুজু গাছের শিকড় থেকে তৈরি উপাদান জাপানি রান্নায় বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি মূলত স্যুপ ও সস ঘন করতে ব্যবহার করা হয়।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হজমের সমস্যা কমানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই নিশ্চিত উপকারিতা দাবি করার আগে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন  ‘বাদাম লাউপাতা ভর্তা’: সহজ ঘরোয়া রেসিপি

শুধু খাবার নয়, জীবনধারাও গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘায়ুর রহস্য কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবারে সীমাবদ্ধ নয়। বরং কয়েকটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস একসঙ্গে অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর।

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য যা জরুরি—

  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা
  • পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকা
  • অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • সুষম ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা

জাপানিদের দীর্ঘ জীবনের রহস্য কোনো জাদুকরী খাবারে নয়, বরং প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে লুকিয়ে আছে। পরিমিত আহার, পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচন, ফারমেন্টেড খাবারের ব্যবহার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক সুস্থতার সমন্বয়ই তাদের দীর্ঘ ও কর্মক্ষম জীবনের অন্যতম ভিত্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে নিজের জীবনেও যুক্ত করতে পারলে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।