ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের উত্তরসূরি নিয়ে বড় ইঙ্গিত, ভ্যান্স নাকি রুবিও?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৪

ট্রাম্পের পাশে জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য প্রশংসা এবং তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার বিস্তার ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভ্যান্সকে এগিয়ে রেখেছে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখনও দৌড়ে রয়েছেন, তবুও ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান ভ্যান্সের পক্ষেই ঝুঁকছে বলে একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠদের কাছে জানতে চাইতেন তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে জেডি ভ্যান্স নাকি মার্কো রুবিও বেশি উপযুক্ত হবেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই প্রশ্ন আর করছেন না তিনি। বরং ভ্যান্সের কাজের প্রশংসা করেই সময় কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, আগে প্রেসিডেন্ট জানতে চাইতেন, ‘জেডি নাকি মার্কো?’ কিংবা ‘জেডি কেমন করছে?’ এখন তিনি বরং বলেন, ‘জেডিকে তো দারুণ লাগছে, তাই না?’ এই পরিবর্তন রিপাবলিকান রাজনীতিতে ভ্যান্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্পের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বলেন, জেডি ভ্যান্স নিজের দক্ষতা ও রাজনৈতিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। ট্রাম্পও সেটি উপলব্ধি করছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মার্কো রুবিও নিজেও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী নন।

চলতি বছর ভ্যান্স একাধিক কারণে আলোচনায় ছিলেন। নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে লেখা নতুন স্মৃতিকথার প্রচারণা, বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করেছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, ২০২৮ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সম্ভাব্য তালিকায় জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন মার্কো রুবিও। ফলে দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে ভ্যান্স এখন অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে ভ্যান্স নিজে এখনই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ভাবতে চান না। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সহায়তা করা। রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।

গত জুনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভ্যান্স বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্স অবশ্যই একসময় পরিবারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে প্রয়োজনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। একই ধরনের বক্তব্য তিনি গত বছরও দিয়েছিলেন।

তাঁর মতে, বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস পর থেকেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করা মার্কিন জনগণের কাছে ভালো বার্তা দেয় না। তাই ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বর্তমান দায়িত্ব সফলভাবে পালন করাই তাঁর অগ্রাধিকার।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ইরান যুদ্ধের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভোটার ওই সংঘাতকে ইতিবাচকভাবে দেখেননি। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে তাঁর জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

এমনকি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেছিলেন, চুক্তি ব্যর্থ হলে তার দোষ তিনি জেডি ভ্যান্সের ঘাড়েই চাপিয়ে দেবেন। যদিও এটি মজার ছলে বলা মন্তব্য, তবুও ট্রাম্পের রাজনীতিতে সম্পর্ক দ্রুত বদলে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দুই বছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে ভ্যান্সও ট্রাম্পের আস্থার বাইরে চলে যেতে পারেন। অতীতেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনেক নেতার ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটেছে।

ভ্যান্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী এবং তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা পিটার থিয়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁকে বড় অঙ্কের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের রানিং মেট হিসেবে ভ্যান্সকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও থিয়েলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা শোনা যায়।

তবে এই সম্পর্ক রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি কমে যাওয়া, প্রযুক্তি কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি এবং আবাসন ব্যয়ের মতো ইস্যুতে অনেক ভোটারের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা কিছু ভোটারের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

এ ছাড়া ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত ভ্যান্স সম্প্রতি পোপের সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধে জড়িয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে ট্রাম্পের খ্রিষ্টান সমর্থকদের একটি অংশ তাঁর প্রতি আগের মতো উৎসাহ নাও দেখাতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভ্যান্সকে প্রায়ই বিদ্রূপের মুখে পড়তে হয়। সমালোচকেরা তাঁর বিকৃত ছবি ব্যবহার করে নানা ধরনের ব্যঙ্গচিত্র ছড়িয়ে দেন। যদিও এসব বিষয় এখন পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হয় না।

অন্যদিকে ভ্যান্সের পক্ষে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। নিহত রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের স্ত্রী এরিকা কার্ক ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে ভ্যান্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। চার্লি কার্ক প্রতিষ্ঠিত টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ রিপাবলিকান তরুণ ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখে।

মার্কো রুবিওরও নিজস্ব কিছু শক্তিশালী রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে পেরেছেন। পাশাপাশি কিউবাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন আনতে সফল হলে সেটি তাঁর বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশেষ করে ফ্লোরিডার কিউবান-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে রুবিওর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। স্প্যানিশভাষী লাতিনো ও কিউবান অভিবাসী পরিবারের সন্তান হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিতে দূরে সরে যাওয়া কিছু লাতিনো ভোটারের সমর্থনও তিনি ফিরিয়ে আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ এখনও অনেক দীর্ঘ। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনমত জরিপ এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য অবস্থান বিবেচনায় জেডি ভ্যান্স আপাতত রিপাবলিকান পার্টির সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। তবুও মার্কিন রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় আগামী দুই বছরে এই সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের উত্তরসূরি নিয়ে বড় ইঙ্গিত, ভ্যান্স নাকি রুবিও?

Update Time : ০৮:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য প্রশংসা এবং তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার বিস্তার ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভ্যান্সকে এগিয়ে রেখেছে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখনও দৌড়ে রয়েছেন, তবুও ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান ভ্যান্সের পক্ষেই ঝুঁকছে বলে একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠদের কাছে জানতে চাইতেন তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে জেডি ভ্যান্স নাকি মার্কো রুবিও বেশি উপযুক্ত হবেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই প্রশ্ন আর করছেন না তিনি। বরং ভ্যান্সের কাজের প্রশংসা করেই সময় কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, আগে প্রেসিডেন্ট জানতে চাইতেন, ‘জেডি নাকি মার্কো?’ কিংবা ‘জেডি কেমন করছে?’ এখন তিনি বরং বলেন, ‘জেডিকে তো দারুণ লাগছে, তাই না?’ এই পরিবর্তন রিপাবলিকান রাজনীতিতে ভ্যান্সের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্পের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বলেন, জেডি ভ্যান্স নিজের দক্ষতা ও রাজনৈতিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। ট্রাম্পও সেটি উপলব্ধি করছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মার্কো রুবিও নিজেও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী নন।

চলতি বছর ভ্যান্স একাধিক কারণে আলোচনায় ছিলেন। নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে লেখা নতুন স্মৃতিকথার প্রচারণা, বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করেছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, ২০২৮ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সম্ভাব্য তালিকায় জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন মার্কো রুবিও। ফলে দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে ভ্যান্স এখন অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে ভ্যান্স নিজে এখনই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ভাবতে চান না। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সহায়তা করা। রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।

গত জুনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভ্যান্স বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্স অবশ্যই একসময় পরিবারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে প্রয়োজনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। একই ধরনের বক্তব্য তিনি গত বছরও দিয়েছিলেন।

তাঁর মতে, বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস পর থেকেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করা মার্কিন জনগণের কাছে ভালো বার্তা দেয় না। তাই ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বর্তমান দায়িত্ব সফলভাবে পালন করাই তাঁর অগ্রাধিকার।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ইরান যুদ্ধের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভোটার ওই সংঘাতকে ইতিবাচকভাবে দেখেননি। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে তাঁর জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

এমনকি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেছিলেন, চুক্তি ব্যর্থ হলে তার দোষ তিনি জেডি ভ্যান্সের ঘাড়েই চাপিয়ে দেবেন। যদিও এটি মজার ছলে বলা মন্তব্য, তবুও ট্রাম্পের রাজনীতিতে সম্পর্ক দ্রুত বদলে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দুই বছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে ভ্যান্সও ট্রাম্পের আস্থার বাইরে চলে যেতে পারেন। অতীতেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনেক নেতার ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটেছে।

ভ্যান্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী এবং তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা পিটার থিয়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁকে বড় অঙ্কের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের রানিং মেট হিসেবে ভ্যান্সকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও থিয়েলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা শোনা যায়।

তবে এই সম্পর্ক রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি কমে যাওয়া, প্রযুক্তি কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি এবং আবাসন ব্যয়ের মতো ইস্যুতে অনেক ভোটারের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা কিছু ভোটারের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

এ ছাড়া ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত ভ্যান্স সম্প্রতি পোপের সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধে জড়িয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে ট্রাম্পের খ্রিষ্টান সমর্থকদের একটি অংশ তাঁর প্রতি আগের মতো উৎসাহ নাও দেখাতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভ্যান্সকে প্রায়ই বিদ্রূপের মুখে পড়তে হয়। সমালোচকেরা তাঁর বিকৃত ছবি ব্যবহার করে নানা ধরনের ব্যঙ্গচিত্র ছড়িয়ে দেন। যদিও এসব বিষয় এখন পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হয় না।

অন্যদিকে ভ্যান্সের পক্ষে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। নিহত রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের স্ত্রী এরিকা কার্ক ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে ভ্যান্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। চার্লি কার্ক প্রতিষ্ঠিত টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ রিপাবলিকান তরুণ ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখে।

মার্কো রুবিওরও নিজস্ব কিছু শক্তিশালী রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে পেরেছেন। পাশাপাশি কিউবাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন আনতে সফল হলে সেটি তাঁর বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশেষ করে ফ্লোরিডার কিউবান-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে রুবিওর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। স্প্যানিশভাষী লাতিনো ও কিউবান অভিবাসী পরিবারের সন্তান হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিতে দূরে সরে যাওয়া কিছু লাতিনো ভোটারের সমর্থনও তিনি ফিরিয়ে আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ এখনও অনেক দীর্ঘ। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনমত জরিপ এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য অবস্থান বিবেচনায় জেডি ভ্যান্স আপাতত রিপাবলিকান পার্টির সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। তবুও মার্কিন রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় আগামী দুই বছরে এই সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা।