যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও নতুন সমঝোতা চুক্তি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক সুবিধার সবচেয়ে বড় অংশ পেতে পারে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আইআরজিসি তেল, নির্মাণ, জাহাজ পরিবহন, টেলিযোগাযোগ, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে বিশাল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে নতুন বিনিয়োগ ও অর্থ প্রবাহের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে যে আর্থিক সুবিধা তৈরি হবে, তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে আইআরজিসি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসি বর্তমানে শুধু সামরিক বাহিনী নয়, বরং ইরানের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোতেও তাদের প্রভাব আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরানের তেল রপ্তানিতে ছাড় দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হলে আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ইরান শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামো, জ্বালানি ও শিল্প খাতে নতুন অর্থায়নের বড় অংশ আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তাদের প্রকৌশল শাখা খাতাম আল-আনবিয়া ইতোমধ্যে ইরানের বহু বড় প্রকল্প পরিচালনা করছে।
তবে এই পরিস্থিতি নতুন জটিলতাও তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও তাদের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ব্যবসা করলে বিদেশি কোম্পানিগুলো আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের তেল ও বাণিজ্য খাতে আইআরজিসির প্রভাব এতটাই গভীর যে তাদের সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে ব্যবসা করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। এ কারণে পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও থাকবে।
অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হলেও তেল রপ্তানিতে সীমিত ছাড়ের মাধ্যমে আইআরজিসি লাভবান হতে পারে। কারণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক পরিচালনায় তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ইরানের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে। তবে সেই অর্থনৈতিক সুফলের বড় অংশ যদি আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে এটি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।


























