ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনফান্তিনোর রায়: আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে পক্ষপাতের প্রমাণ নেই

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছেন, ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে বলা যায় ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো একটি দলকে সুবিধা দিতে চেয়েছিল। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে চলা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং এবং ভিএআর ব্যবহারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মিশরের কোচ, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে এবং সেগুলো ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ফিফা সভাপতি নিজেই পুরো ঘটনাটি পর্যালোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবলের সঙ্গে তার কয়েক দশকের সম্পর্ক রয়েছে এবং রেফারিং ও প্রতিযোগিতা পরিচালনার নানা দিক নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাই যখন কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী বিতর্ক সৃষ্টি করে, তখন সেটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা তার দায়িত্বের অংশ।

ইনফান্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিতর্কিত ঘটনাগুলো একবার বা দু’বার নয়, বরং দশবারেরও বেশি দেখেছেন। প্রতিটি ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, ধীরগতির রিপ্লে এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ভিএআর যোগাযোগও খতিয়ে দেখেছেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো ইঙ্গিত পাননি, যা ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের অভিযোগকে সমর্থন করে।

ফিফা সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিশ্লেষণ তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য করেননি। তার মতে, আর্জেন্টিনা কিংবা মিশর—কোনো দেশের পরিচয় এখানে মুখ্য ছিল না। বরং ফুটবলের মতো বৈশ্বিক খেলায় সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে সমর্থকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে। তার মতে, ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে একই ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক বা মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু শুধুমাত্র মতবিরোধের ভিত্তিতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভিএআর প্রযুক্তির উদ্দেশ্য নিয়েও কথা বলেছেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি চালু করা হয়েছে স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল কমানোর জন্য। তবে এর অর্থ এই নয় যে ফুটবল থেকে সব ধরনের বিতর্ক চিরতরে দূর হয়ে যাবে। কারণ খেলার অনেক পরিস্থিতিতে রেফারির ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মিশরের সমর্থকদের হতাশার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা কেন সিদ্ধান্তগুলোকে সঠিক মনে করছেন, সেটিও তার কাছে বোধগম্য। তার মতে, এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে যে এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন কাজ।

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফার কাজ কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করা নয়। বরং খেলার আইন যেন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ হয়, সেটি নিশ্চিত করাই সংস্থাটির প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও জানান, রেফারিং বিভাগ যদি মনে করে কোনো ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তাহলে এই ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনাগুলোও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মতো পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। তার ভাষায়, কোনো রেফারি বা সিদ্ধান্তই বিশ্লেষণের ঊর্ধ্বে নয় এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমেই ফুটবল আরও উন্নত হয়।

বিবৃতির শেষাংশে ফুটবলের প্রতি আস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানান ফিফা সভাপতি। তিনি বলেন, ফুটবলে আবেগ থাকবে, বিতর্কও থাকবে। তবে খেলার প্রতি বিশ্বাস গড়ে ওঠে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে। গুজব বা অনুমানের ওপর নয়, বরং তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই ফুটবলের সততা রক্ষা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইনফান্তিনোর রায়: আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে পক্ষপাতের প্রমাণ নেই

Update Time : ০৯:১৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছেন, ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে বলা যায় ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো একটি দলকে সুবিধা দিতে চেয়েছিল। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে চলা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং এবং ভিএআর ব্যবহারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মিশরের কোচ, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে এবং সেগুলো ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ফিফা সভাপতি নিজেই পুরো ঘটনাটি পর্যালোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবলের সঙ্গে তার কয়েক দশকের সম্পর্ক রয়েছে এবং রেফারিং ও প্রতিযোগিতা পরিচালনার নানা দিক নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাই যখন কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী বিতর্ক সৃষ্টি করে, তখন সেটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা তার দায়িত্বের অংশ।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলকে ৭ গোল দেওয়া দেশগুলো: বিশ্ব ফুটবলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড

ইনফান্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিতর্কিত ঘটনাগুলো একবার বা দু’বার নয়, বরং দশবারেরও বেশি দেখেছেন। প্রতিটি ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, ধীরগতির রিপ্লে এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ভিএআর যোগাযোগও খতিয়ে দেখেছেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো ইঙ্গিত পাননি, যা ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের অভিযোগকে সমর্থন করে।

ফিফা সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিশ্লেষণ তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য করেননি। তার মতে, আর্জেন্টিনা কিংবা মিশর—কোনো দেশের পরিচয় এখানে মুখ্য ছিল না। বরং ফুটবলের মতো বৈশ্বিক খেলায় সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে সমর্থকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে। তার মতে, ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে একই ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক বা মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু শুধুমাত্র মতবিরোধের ভিত্তিতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  বিতর্ক পেরিয়ে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের রেফারি ভিনচিচ

ভিএআর প্রযুক্তির উদ্দেশ্য নিয়েও কথা বলেছেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি চালু করা হয়েছে স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল কমানোর জন্য। তবে এর অর্থ এই নয় যে ফুটবল থেকে সব ধরনের বিতর্ক চিরতরে দূর হয়ে যাবে। কারণ খেলার অনেক পরিস্থিতিতে রেফারির ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মিশরের সমর্থকদের হতাশার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা কেন সিদ্ধান্তগুলোকে সঠিক মনে করছেন, সেটিও তার কাছে বোধগম্য। তার মতে, এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে যে এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন কাজ।

আরও পড়ুন  খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে আবারও বিশ্বকে মুগ্ধ করল জাপান

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফার কাজ কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করা নয়। বরং খেলার আইন যেন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ হয়, সেটি নিশ্চিত করাই সংস্থাটির প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও জানান, রেফারিং বিভাগ যদি মনে করে কোনো ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তাহলে এই ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনাগুলোও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মতো পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। তার ভাষায়, কোনো রেফারি বা সিদ্ধান্তই বিশ্লেষণের ঊর্ধ্বে নয় এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমেই ফুটবল আরও উন্নত হয়।

বিবৃতির শেষাংশে ফুটবলের প্রতি আস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানান ফিফা সভাপতি। তিনি বলেন, ফুটবলে আবেগ থাকবে, বিতর্কও থাকবে। তবে খেলার প্রতি বিশ্বাস গড়ে ওঠে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে। গুজব বা অনুমানের ওপর নয়, বরং তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই ফুটবলের সততা রক্ষা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।