ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের এক ঘোষণায় বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ও তীব্র অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত শেষ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি ও ধাক্কাটি লক্ষ্য করা যায়।

বুধবার এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সঙ্গে হওয়া পূর্ববর্তী সমস্ত সমঝোতার অবসান ঘটেছে, যদিও সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা এখনই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। মূলত এর আগে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনক হামলার কড়া জবাব দিতেই মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি ইরানের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।

এই চরম সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মূল্য এক ধাক্কায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে গিয়ে প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলারে এসে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের রেট ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল সরাসরি ৭৫ ডলারে ওঠে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা  এর বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে একসময় প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম আবার যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসতে শুরু করেছিল।

কিন্তু নতুন করে আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপ এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করেছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে এশিয়া ও ইউরোপের আমদানিকারক দেশগুলোতে নতুন করে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ওপেকের তেল উৎপাদন নীতির ওপরও নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যদি এই সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম খুব শীঘ্রই ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। আপাতত বিশ্ববাসী গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে মার্কিন-ইরান এই দ্বন্দ্বের জল কতদূর গড়ায় এবং তা বিশ্ব বাণিজ্যকে কতটা বিপর্যস্ত করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের এক ঘোষণায় বাড়ল তেলের দাম

Update Time : ১১:২৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন ও তীব্র অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত শেষ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি ও ধাক্কাটি লক্ষ্য করা যায়।

বুধবার এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সঙ্গে হওয়া পূর্ববর্তী সমস্ত সমঝোতার অবসান ঘটেছে, যদিও সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা এখনই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। মূলত এর আগে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনক হামলার কড়া জবাব দিতেই মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি ইরানের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে গাড়ি কমেছে ৩০ শতাংশ, ভাড়া বেড়েছে ৪০ ভাগ

এই চরম সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মূল্য এক ধাক্কায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে গিয়ে প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলারে এসে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের রেট ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল সরাসরি ৭৫ ডলারে ওঠে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা  এর বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন  আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: আড়াই শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে একসময় প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম আবার যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসতে শুরু করেছিল।

কিন্তু নতুন করে আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপ এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করেছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে এশিয়া ও ইউরোপের আমদানিকারক দেশগুলোতে নতুন করে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ওপেকের তেল উৎপাদন নীতির ওপরও নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

আরও পড়ুন  বিশ্ব বাণিজ্যে ধাক্কা! হরমুজ প্রণালি বন্ধে অনড় ইরান, বাড়ছে তেল সংকটের শঙ্কা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যদি এই সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম খুব শীঘ্রই ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। আপাতত বিশ্ববাসী গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে মার্কিন-ইরান এই দ্বন্দ্বের জল কতদূর গড়ায় এবং তা বিশ্ব বাণিজ্যকে কতটা বিপর্যস্ত করে তোলে।