ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল: প্রতিশোধ নাকি ইতিহাস?

এমবাপে ও হাকিমি

২০২২ বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই স্মৃতিকে সামনে রেখেই আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। বৃহস্পতিবার বোস্টন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি মরক্কোর সামনে থাকছে চার বছর আগের হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ।

ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার এই লড়াইকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল দিদিয়ের দেশমের দল। এবার সেই পরাজয়ের ক্ষত ভুলে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

দুই দলের পরিসংখ্যান অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত ছয়বারের দেখায় চারবার জয় পেয়েছে ফরাসিরা, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মরক্কো এখনও ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো জয় পায়নি। ফলে ইতিহাসের এই বাধাও টপকাতে হবে মোহামেদ ওয়াহাবির শিষ্যদের।

টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে তারা নিজেদের পাঁচটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে। এই পাঁচ ম্যাচে তারা ১৩টি গোল করেছে, যা তাদের আক্রমণভাগের শক্তিরই প্রমাণ। রাউন্ড অব সিক্সটিনে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায়ও সফল হয়েছে ফরাসিরা।

সেই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি গোলই জয় এনে দেয় ফ্রান্সকে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি ও আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে সাত গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন এমবাপে। এছাড়া উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের গতিময় ফুটবল প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে যে তাদের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা নয়। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে তারা নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে। এরপর সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে আফ্রিকান দলটি।

মরক্কোর শক্তির জায়গা তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি এবং নুসাইর মাজরাউই দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মিডফিল্ডে আজেদিন উনাহির পারফরম্যান্সও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

তবে ম্যাচের আগে দুই দলই কিছুটা চোট-সংকটে রয়েছে। ফ্রান্সের মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনিকে নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এছাড়া মার্কাস থুরামও এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তারপরও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় পাওয়া দলটির ওপর আস্থা রাখছেন কোচ দেশম।

মরক্কোর অবস্থাও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি এখনও পুরোপুরি ফিট নন। একই সঙ্গে ডিফেন্ডার শাদি রিয়াদের খেলাও অনিশ্চিত। তিনি না খেলতে পারলে রেদুয়ান হালহালকে রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে।

অভিজ্ঞতা, আক্রমণভাগের গভীরতা এবং বড় ম্যাচে সাফল্যের কারণে ফ্রান্সকে ফেভারিট ধরা হচ্ছে। তবে মরক্কো ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে যে তারা বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ফলে সেমিফাইনালের টিকিটের এই লড়াইয়ে জমজমাট এবং উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল: প্রতিশোধ নাকি ইতিহাস?

Update Time : ১২:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

২০২২ বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই স্মৃতিকে সামনে রেখেই আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। বৃহস্পতিবার বোস্টন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি মরক্কোর সামনে থাকছে চার বছর আগের হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ।

ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার এই লড়াইকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল দিদিয়ের দেশমের দল। এবার সেই পরাজয়ের ক্ষত ভুলে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

দুই দলের পরিসংখ্যান অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত ছয়বারের দেখায় চারবার জয় পেয়েছে ফরাসিরা, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মরক্কো এখনও ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো জয় পায়নি। ফলে ইতিহাসের এই বাধাও টপকাতে হবে মোহামেদ ওয়াহাবির শিষ্যদের।

আরও পড়ুন  রেফারি বিতর্কে মুখ খুললেন মেসি, যা বললেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক

টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে তারা নিজেদের পাঁচটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে। এই পাঁচ ম্যাচে তারা ১৩টি গোল করেছে, যা তাদের আক্রমণভাগের শক্তিরই প্রমাণ। রাউন্ড অব সিক্সটিনে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায়ও সফল হয়েছে ফরাসিরা।

সেই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি গোলই জয় এনে দেয় ফ্রান্সকে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসি ও আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে সাত গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন এমবাপে। এছাড়া উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের গতিময় ফুটবল প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন  ৭-১-এর পর সবচেয়ে বাজে ৪৫ মিনিট? ব্রাজিলকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা

অন্যদিকে, মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে যে তাদের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা নয়। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে তারা নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে। এরপর সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে আফ্রিকান দলটি।

মরক্কোর শক্তির জায়গা তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি এবং নুসাইর মাজরাউই দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মিডফিল্ডে আজেদিন উনাহির পারফরম্যান্সও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

তবে ম্যাচের আগে দুই দলই কিছুটা চোট-সংকটে রয়েছে। ফ্রান্সের মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনিকে নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এছাড়া মার্কাস থুরামও এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তারপরও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় পাওয়া দলটির ওপর আস্থা রাখছেন কোচ দেশম।

আরও পড়ুন  কারা আগে নকআউটে? বিশ্বকাপে উত্তেজনার দৌড়

মরক্কোর অবস্থাও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি এখনও পুরোপুরি ফিট নন। একই সঙ্গে ডিফেন্ডার শাদি রিয়াদের খেলাও অনিশ্চিত। তিনি না খেলতে পারলে রেদুয়ান হালহালকে রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে।

অভিজ্ঞতা, আক্রমণভাগের গভীরতা এবং বড় ম্যাচে সাফল্যের কারণে ফ্রান্সকে ফেভারিট ধরা হচ্ছে। তবে মরক্কো ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে যে তারা বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ফলে সেমিফাইনালের টিকিটের এই লড়াইয়ে জমজমাট এবং উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।