চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তুত রয়েছেন এবং সরকারও রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে রাজস্ব আদায়ের বর্তমান অবস্থা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, কর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতেই নতুন অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। করদাতাদের জন্য সহজ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। যা সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এত বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে চ্যালেঞ্জিং হলেও বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করছে সরকার।
বৈঠকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীরা কর ব্যবস্থার সরলীকরণ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছর শেষে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।
অর্থাৎ বিদায়ী অর্থবছরে সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড হতে পারে, যদিও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ২০ জুন পর্যন্ত শুল্ক ও কর বাবদ আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে আদায় হয় ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা এবং শেষ ১০ দিনে আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল কর প্রশাসন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে রাজস্ব সংগ্রহের ভারসাম্য রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার মনে করছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তবে এজন্য সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সমাজ এবং করদাতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।





























