ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছে ফাঁসির দড়ি : নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন—এমন তথ্যের প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য নয়, বরং আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারের ভূমিকার ওপর জোর

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, কখন, কীভাবে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে দেশে আনা হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তার মতে, এ বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে আইনি ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দিল্লির প্রসঙ্গ

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য অনেকাংশেই ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যও দিল্লির অনুমতির ভিত্তিতেই এসেছে বলে তার ধারণা।

তবে এ বিষয়ে ভারত সরকার বা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যে সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ

নাহিদ ইসলাম যে সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেন, সেখানে শেখ হাসিনা নাকি চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়। তবে ওই বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

আইনগত প্রেক্ষাপট

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ এলেও, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থা এবং রায়ের বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সরকারের আইনি উদ্যোগ ও আদালতের আদেশের ওপর নির্ভরশীল। কোনো দণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

এমএসএমই দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের বিকল্প নেই। সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই খাতকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়া।

এখন নজর কোথায়?

নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কী পদক্ষেপ নেয় বা এ বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।

এই প্রতিবেদনে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, দাবি ও মন্তব্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিজস্ব বক্তব্য; এগুলোর বিষয়ে শেখ হাসিনা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছে ফাঁসির দড়ি : নাহিদ ইসলাম

Update Time : ১১:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন—এমন তথ্যের প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য নয়, বরং আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারের ভূমিকার ওপর জোর

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, কখন, কীভাবে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে দেশে আনা হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন  রূপগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে হামলা, আহত ১০

তার মতে, এ বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে আইনি ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দিল্লির প্রসঙ্গ

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য অনেকাংশেই ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যও দিল্লির অনুমতির ভিত্তিতেই এসেছে বলে তার ধারণা।

তবে এ বিষয়ে ভারত সরকার বা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যে সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ

নাহিদ ইসলাম যে সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেন, সেখানে শেখ হাসিনা নাকি চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয়। তবে ওই বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

আরও পড়ুন  ১৭ বছর পর কার্যকর সংসদ পেল বাংলাদেশ, স্পিকার

আইনগত প্রেক্ষাপট

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ এলেও, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থা এবং রায়ের বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সরকারের আইনি উদ্যোগ ও আদালতের আদেশের ওপর নির্ভরশীল। কোনো দণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

এমএসএমই দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের বিকল্প নেই। সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই খাতকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়া।

আরও পড়ুন  শহীদ মিনারে কারিনা কায়সারের জানাজা, রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি

এখন নজর কোথায়?

নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কী পদক্ষেপ নেয় বা এ বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।

এই প্রতিবেদনে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, দাবি ও মন্তব্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিজস্ব বক্তব্য; এগুলোর বিষয়ে শেখ হাসিনা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।