দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির মধ্যে আবারও নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের ছয়টি বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর প্রবল সক্রিয়তার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং বৃষ্টিপ্রবণ এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
রোববার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে সেটিকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তা অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন বৃষ্টিপাত পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হতে পারে।
ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
চট্টগ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে নগরীর একাধিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন চলাচলেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রামে রেকর্ড হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি, যা ভারী বৃষ্টির মাত্রা অতিক্রম করেছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর আগে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব কাটলেও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণেই এখনো ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
টানা বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু, সিলেটের কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি ও বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, জলাবদ্ধ সড়কে সতর্কভাবে চলাচল করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে চলমান বর্ষণ এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নতুন করে সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। তাই আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।





























