ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চাঁদ থেকে আসবে বিদ্যুৎ? জাপানের নতুন চমক পরিকল্পনা

গ্যালাক্সির গভীর থেকে দেখা চাঁদের স্বাভাবিক ও বাস্তব রূপ

বিদ্যুৎ সংকটমুক্ত একটি ভবিষ্যৎ! এই ধারণা নতুন নয়। তবে এবার সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে জাপানের একটি বড় প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান। তাদের পরিকল্পনা, চাঁদের পৃষ্ঠে বিশাল পরিসরে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেখান থেকে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো।

এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটির নাম “লুনার সোলার রিং”। ধারণাটি প্রথম সামনে আসে ২০১১ সালে, জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর, যখন দেশটি বিকল্প ও নিরাপদ জ্বালানির উৎস খুঁজতে শুরু করে।

 

কী এই লুনার সোলার রিং প্রকল্প

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের বিষুবরেখা বরাবর প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সোলার প্যানেল বেল্ট তৈরি করা হবে। এর প্রস্থও হবে কয়েকশ কিলোমিটার।

এই বিশাল কাঠামো সূর্যের আলো সংগ্রহ করে সেটিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করবে, যা পরে পৃথিবীতে পাঠানো হবে।

 

কেন চাঁদকে বেছে নেওয়া হচ্ছে

পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনিয়মিত উৎপাদন। মেঘ, বৃষ্টি, রাত সব মিলিয়ে উৎপাদন সবসময় স্থির থাকে না।চাঁদের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা নেই।

কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, মেঘ বা আবহাওয়ার প্রভাব নেই, সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে, চাঁদের এক পাশ দীর্ঘ সময় আলো পায়।

এই কারণে সেখানে স্থাপিত সোলার প্যানেল থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন শক্তি পাওয়া সম্ভব।

 

কীভাবে পৃথিবীতে আসবে এই বিদ্যুৎ

চাঁদ থেকে সরাসরি তার দিয়ে বিদ্যুৎ আনা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞানীরা ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশন ও লেজার বিম প্রযুক্তি।

এই শক্তি পৃথিবীতে থাকা “রেকটেনা” নামের বিশেষ অ্যান্টেনা গ্রহণ করবে এবং সেটিকে আবার বিদ্যুতে রূপান্তর করবে।

 

কতটা বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে

পরিকল্পনা সফল হলে দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার টেরাওয়াট শক্তি উৎপাদন করা যাবে।

যা বর্তমান বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।

 

কবে বাস্তবায়ন হতে পারে

যদিও প্রকল্পটি এখনো ধারণা পর্যায়ে রয়েছে, তবুও ২০৩৫ সালের দিকে এর প্রাথমিক কাজ শুরু করার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

 

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিকল্পনা

চাঁদে সোলার প্যানেল বসিয়ে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ আনার এই পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের একটি বড় অংশই আসে কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, যা পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। এই প্রেক্ষাপটে চাঁদ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সৌরশক্তি সংগ্রহ করা গেলে তা হবে একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই সমাধান। পাশাপাশি এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা যেমন আবহাওয়া বা দিনের-রাতের প্রভাব কমে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে, যা শিল্প, প্রযুক্তি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

চাঁদে সোলার প্যানেল বসিয়ে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ আনার ধারণা এখনো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হলেও, এটি প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। সব চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জ্বালানি ব্যবস্থায় এক বিপ্লব ঘটতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

চাঁদ থেকে আসবে বিদ্যুৎ? জাপানের নতুন চমক পরিকল্পনা

Update Time : ০৮:৫৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকটমুক্ত একটি ভবিষ্যৎ! এই ধারণা নতুন নয়। তবে এবার সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে জাপানের একটি বড় প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান। তাদের পরিকল্পনা, চাঁদের পৃষ্ঠে বিশাল পরিসরে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেখান থেকে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো।

এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটির নাম “লুনার সোলার রিং”। ধারণাটি প্রথম সামনে আসে ২০১১ সালে, জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর, যখন দেশটি বিকল্প ও নিরাপদ জ্বালানির উৎস খুঁজতে শুরু করে।

 

কী এই লুনার সোলার রিং প্রকল্প

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের বিষুবরেখা বরাবর প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সোলার প্যানেল বেল্ট তৈরি করা হবে। এর প্রস্থও হবে কয়েকশ কিলোমিটার।

এই বিশাল কাঠামো সূর্যের আলো সংগ্রহ করে সেটিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করবে, যা পরে পৃথিবীতে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন  সাবমেরিন ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণে ৪ দিন ধীরগতির ইন্টারনেটের আশঙ্কা

 

কেন চাঁদকে বেছে নেওয়া হচ্ছে

পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনিয়মিত উৎপাদন। মেঘ, বৃষ্টি, রাত সব মিলিয়ে উৎপাদন সবসময় স্থির থাকে না।চাঁদের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা নেই।

কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, মেঘ বা আবহাওয়ার প্রভাব নেই, সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে, চাঁদের এক পাশ দীর্ঘ সময় আলো পায়।

এই কারণে সেখানে স্থাপিত সোলার প্যানেল থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন শক্তি পাওয়া সম্ভব।

 

কীভাবে পৃথিবীতে আসবে এই বিদ্যুৎ

চাঁদ থেকে সরাসরি তার দিয়ে বিদ্যুৎ আনা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞানীরা ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশন ও লেজার বিম প্রযুক্তি।

এই শক্তি পৃথিবীতে থাকা “রেকটেনা” নামের বিশেষ অ্যান্টেনা গ্রহণ করবে এবং সেটিকে আবার বিদ্যুতে রূপান্তর করবে।

আরও পড়ুন  টেলিকম ডাটা সাইবার বিল নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

 

কতটা বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে

পরিকল্পনা সফল হলে দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার টেরাওয়াট শক্তি উৎপাদন করা যাবে।

যা বর্তমান বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।

 

কবে বাস্তবায়ন হতে পারে

যদিও প্রকল্পটি এখনো ধারণা পর্যায়ে রয়েছে, তবুও ২০৩৫ সালের দিকে এর প্রাথমিক কাজ শুরু করার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

 

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিকল্পনা

চাঁদে সোলার প্যানেল বসিয়ে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ আনার এই পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের একটি বড় অংশই আসে কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, যা পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। এই প্রেক্ষাপটে চাঁদ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সৌরশক্তি সংগ্রহ করা গেলে তা হবে একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই সমাধান। পাশাপাশি এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা যেমন আবহাওয়া বা দিনের-রাতের প্রভাব কমে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে, যা শিল্প, প্রযুক্তি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  ৭০৭ মামলার ভার্চুয়াল শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

 

চাঁদে সোলার প্যানেল বসিয়ে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ আনার ধারণা এখনো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হলেও, এটি প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। সব চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জ্বালানি ব্যবস্থায় এক বিপ্লব ঘটতে পারে।