অনলাইন কর পরিশোধ সেবা বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় নতুন গতি এনেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে এখন করদাতারা ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কর সনদ ও রিটার্ন গ্রহণের স্বীকৃতিপত্রও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি লিমিটেডের তৈরি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম করসেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করে তুলেছে।
২০২৫–২৬ করবর্ষ থেকে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। এর ফলে প্রথমবারের মতো ব্যক্তি শ্রেণির শতভাগ আয়কর রিটার্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমা হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই প্ল্যাটফর্মে ৫০ লাখের বেশি রিটার্ন জমা পড়েছে। এসব রিটার্নের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা ডিজিটাল কর ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরির আগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ব্যয়বহুল কয়েকটি প্রকল্প প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে সিনেসিস আইটি দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। ব্যবহারবান্ধব ও স্কেলেবল এই প্রযুক্তি এখন দেশের কর ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ডিজিটাল অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
শুধু ই-রিটার্ন নয়, ২০১৩ সালে ই-টিন চালুর পর থেকে সিনেসিস আইটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য ইএফডিএমএসসহ একাধিক ডিজিটাল সেবা বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বাতায়ন, ৩৩৩ জাতীয় কল সেন্টার, জাতীয় জব পোর্টাল এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন প্ল্যাটফর্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাও প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে।
বর্তমান ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্মে করদাতারা মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকেই সহজে তথ্য পূরণ করে রিটার্ন জমা দিতে পারেন। এতে রয়েছে তাৎক্ষণিক কর সনদ, মোবাইল-রেসপন্সিভ ইন্টারফেস, অফলাইনে তথ্য পূরণের সুবিধা, হেল্পডেস্ক এবং প্রশাসনের জন্য রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড। এসব সুবিধার কারণে করদাতাদের সময় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ করবর্ষে অনলাইনে রিটার্ন জমা পড়েছিল ৫ লাখ ২৭ হাজার। পরবর্তী করবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৭ লাখ ১২ হাজারে পৌঁছায়। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ৬৫ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল করসেবা আরও বিস্তৃত হলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





























