ওয়ালটন আইকনিক টাওয়ার এখন দেশের কর্পোরেট অবকাঠামো উন্নয়নের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নির্মিত হতে যাওয়া এই ভবনটি হবে দেশের অন্যতম বড় কর্পোরেট অফিস কমপ্লেক্স।
ওয়ালটনের এই প্রকল্প শুধু একটি অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নয়। এটি মূলত একটি আধুনিক কর্মপরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ যেখানে প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য এবং স্মার্ট অবকাঠামো একসঙ্গে যুক্ত থাকবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই ভবন নির্মাণের মাধ্যমে দেশের শিল্প সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে নতুনভাবে তুলে ধরা হবে।
ওয়ালটন আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের জন্য ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। এই এলাকা বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম পরিকল্পিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট অফিস এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ওয়ালটনের নতুন কর্পোরেট কমপ্লেক্স এই এলাকার অবকাঠামোগত গুরুত্ব আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়ালটন আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের জন্য প্রায় ১৪.৩ বিঘা জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো কমপ্লেক্সটির আয়তন হবে প্রায় ১৮ লাখ বর্গফুট। প্রাথমিক ধাপে প্রায় ৭ বিঘা জমির ওপর একটি অত্যাধুনিক অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এই ভবনের আয়তন হবে প্রায় ৯ লাখ বর্গফুট। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবনটি হবে ১৩ তলা বিশিষ্ট। এছাড়া এতে তিনটি বেসমেন্টও থাকবে যেখানে পার্কিং ও অন্যান্য সুবিধা রাখা হবে।
ওয়ালটন আইকনিক টাওয়ার নির্মাণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবনটির ডিজাইনে গ্রিন বিল্ডিং কনসেপ্ট অনুসরণ করা হবে। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে যাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভবনটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমাবে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।
প্রকল্পটির স্থাপত্য নকশার সঙ্গে যুক্ত আর্কিটেক্ট মুস্তফা খালিদ পলাশ বলেন, এই মেগা আইকনিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি আনন্দিত। তার মতে, ভবনের ডিজাইনে এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে এটি আধুনিক স্থাপত্যের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, গ্রিন বিল্ডিং ধারণা, জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ওয়ালটন আইকনিক টাওয়ার প্রকল্পটি শুধু একটি কর্পোরেট অফিস নয়, বরং এটি দেশের শিল্প সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।বাংলাদেশের স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়ালটন ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। এই নতুন কর্পোরেট কমপ্লেক্স সেই অগ্রযাত্রাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক স্থাপত্য ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই ভবন ভবিষ্যতে দেশের কর্পোরেট অবকাঠামোর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।



























