মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ সরকারি বরাদ্দ ও নিজস্ব অর্থায়নে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার দুর্গম এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে বন্যার্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ তুলে দিচ্ছেন। প্রায় ৩০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। দুর্গম এলাকাতেও নিয়মিত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ফলে অনেক অসহায় পরিবার তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট থেকে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে।

সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ নিজেই বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় উপস্থিত থেকে মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দিচ্ছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, অনেক এলাকা এখনো পানির নিচে থাকায় নৌকা ও স্পিডবোট ব্যবহার করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চাল, ডাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও এই কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
ত্রাণ সহায়তার আওতায় চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী, হাশিমপুর, ধোপাছড়ি, কেশুয়া, সাতবাড়িয়া, বৈলতলী ও বরকল ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া, পুরানগড়, কেঁওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া ও ধর্মপুর ইউনিয়নেও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে পৌঁছে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে কোনো পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

এদিকে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পানিবন্দি মানুষের কাছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে নৌযান ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বন্যার পানি পুরোপুরি না নামায় অনেক এলাকার মানুষ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমির পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। বর্তমানে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রত্যাশা, চলমান সহায়তার পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে এবং তারা স্বাভাবিক জীবন-জীবিকায় ফিরতে পারবেন।


























