সাতক্ষীরার সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আবারও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক বিলাস মণ্ডল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট (Shown Arrest) দেখানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর থানার মামলা নম্বর-১৪ (তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪), জিআর নং-৪০৩/২৪-এর অধীনে দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অনাথ মিত্র আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাসা থেকে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে তাকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর ১ জুন ২০২৫ তাকে সাতক্ষীরা সদর থানার আরেকটি মামলায় পুনরায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৮, ৪৩৬, ৪২৭, ৩৮০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে ১১ জুন ২০২৫ দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলায় ২৫ জুন তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, ৩ জুন ২০২৬ হাইকোর্ট সর্বশেষ মামলায় তার মক্কেলকে জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলেও আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন।
তিনি জানান, ১০ জুন জামিননামা সম্পাদনের পর ১৩ জুন আবারও তাকে জিআর-৩৯৯/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৬৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ২৫ জুন ২০২৬ সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ওই মামলায় তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।
কিন্তু জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই ২৯ জুন তাকে আবারও জিআর-৪০২/২৪ নম্বর আরেকটি হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
আইনজীবীর দাবি, ৯ জুলাই ২০২৬ ওই মামলাতেও জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার মক্কেলকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তবে জামিনের পর এবার নতুন করে জিআর-৪০৩/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, সর্বশেষ মামলাটি সাতক্ষীরা সদর থানার কাশেমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইমাদুল হক দায়ের করেন। তিনি মৃত নুর আলী সানার ছেলে।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতক্ষীরা-১ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি পরবর্তীতে তদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয় এবং জিআর নং-৪০৩/২৪ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
লায়লা পারভীন সেঁজুতির বিরুদ্ধে গত দুই বছরে একাধিক ফৌজদারি, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং হত্যা সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত চলছে। বিভিন্ন মামলায় তিনি পর্যায়ক্রমে জামিন পেলেও প্রতিবারই নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তার আইনজীবীরা বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বলে দাবি করলেও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি মামলার তদন্ত আলাদা এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে লায়লা পারভীন সেঁজুতি কারাগারেই রয়েছেন। সর্বশেষ হত্যা মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
























