ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিশ্বকাপ ২০২৬ সেমিফাইনালের টিকিটের দাম কত? Logo ডে ট্রেডিং সুবিধা কি চালু হচ্ছে? বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত Logo মেসিকে নিয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসর কোচ হোসাম হাসান Logo ‘সবাই একে অপরকে পিষছিল’: ব্যাংককের পানশালায় কান্নার সেই রাত! Logo ২৪ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু Logo কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আশাবাদী প্রতিবেদন Logo বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্স ও ইয়ামালের স্পেন মুখোমুখি হচ্ছে Logo নকলায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৬ কর্মী গ্রেপ্তার Logo জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম Logo এয়ার ফ্রায়ারে রান্না কি পুষ্টিগুণ বজায় রাখে? জানুন সত্য

অফিসে অনবরত হাই উঠছে? মুহূর্তেই চাঙা হওয়ার উপায়

বারবার হাই? কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনুন সহজেই।

অফিসে কাজ করতে করতেই যদি বারবার হাই ওঠে, চোখে ঘুম ভর করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজেও মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরে পানির ঘাটতি, দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা কিংবা দুপুরের খাবারের পর স্বাভাবিক ক্লান্তি—এসব কারণেই এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে খুব দ্রুতই ঝিমুনি কাটিয়ে কাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

কেন অফিসে বারবার ঘুম পায়?

অনেকেই মনে করেন, শুধু রাতে কম ঘুমানোর কারণেই দিনের বেলা ঘুম পায়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকের দুপুরের পর ক্লান্তি আসে। এর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে।

  • দুপুরের খাবারের পর শরীরের স্বাভাবিক ক্লান্তি
  • দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে কাজ করা
  • পর্যাপ্ত পানি পান না করা
  • মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত কাজের চাপ
  • একই ধরনের কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা

এসব কারণ মিলেই কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং অফিসে বারবার হাই ওঠা শুরু হয়।

১. সুযোগ থাকলে নিন একটি পাওয়ার ন্যাপ

ঘুমের কারণে যদি কাজ এগোতেই না চায়, তাহলে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি ছোট্ট পাওয়ার ন্যাপ বেশ কার্যকর হতে পারে।

স্বল্প সময়ের এই বিশ্রাম—

  • মস্তিষ্ককে সতেজ করে
  • মনোযোগ বাড়ায়
  • ক্লান্তি কমায়
  • কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে

তবে অবশ্যই দীর্ঘ সময় ঘুমানো উচিত নয়। বেশি সময় ঘুমালে উল্টো আরও ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে।

২. এক কাপ চা বা কফি হতে পারে দ্রুত সমাধান

অফিসে ঘুমানোর সুযোগ না থাকলে এক কাপ গরম কফি বা চা আপনাকে কিছুটা সতেজ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে।

কফিতে থাকা ক্যাফেইন—

  • ঘুমভাব কমায়
  • সাময়িকভাবে শক্তি বাড়ায়
  • মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে

তবে অতিরিক্ত কফি পান না করাই ভালো। বিশেষ করে বিকেলের পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. চেয়ার ছেড়ে একটু হাঁটুন

একটানা বসে থাকলে শরীরে অলসতা আরও বাড়ে। তাই প্রতি ঘণ্টায় অন্তত কয়েক মিনিট উঠে দাঁড়ানো ভালো।

আপনি যা করতে পারেন—

  • অফিসের করিডরে কয়েক মিনিট হাঁটুন
  • হাত-পা স্ট্রেচিং করুন
  • জানালার পাশে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ান
  • সম্ভব হলে একটু খোলা বাতাসে সময় কাটান

এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শরীর দ্রুত চাঙা হয়ে ওঠে।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীরে পানির ঘাটতি থাকলেও ক্লান্তি ও ঝিমুনি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • ডেস্কে সব সময় পানির বোতল রাখুন
  • অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি পান করুন
  • তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন

পর্যাপ্ত পানি শরীরকে সচল রাখার পাশাপাশি মনোযোগও বাড়াতে সাহায্য করে।

৫. কঠিন কাজগুলো সকালে শেষ করুন

দিনের শুরুতে মানুষের কর্মশক্তি সাধারণত বেশি থাকে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজগুলো সকালের দিকেই শেষ করার চেষ্টা করুন।

এর ফলে—

  • দুপুরের ক্লান্তির সময় সহজ কাজ করা যায়
  • কাজের চাপ কম অনুভূত হয়
  • উৎপাদনশীলতা বাড়ে
  • মানসিক চাপও কমে

দুপুরের খাবারেও রাখুন সতর্কতা

ভারী ও অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার দুপুরের পর ঘুমভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দুপুরের খাবারে পরিমিত ভাত, শাকসবজি, প্রোটিন ও ফল রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত মিষ্টি বা সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলাও ভালো।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত বিশ্রামের পরও প্রতিদিন অতিরিক্ত ঘুমভাব থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিচের লক্ষণগুলো থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিন—

  • প্রতিদিন অফিসে অতিরিক্ত ঝিমুনি
  • রাতে ভালো ঘুম হলেও ক্লান্তি না কমা
  • কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
  • দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা চলতে থাকা

এসব ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা, হরমোনজনিত অসুবিধা বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অফিসে মাঝে মাঝে ক্লান্তি বা হাই ওঠা স্বাভাবিক হলেও এটি যদি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জীবনযাপন ও কাজের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পানি পান, অল্প হাঁটাহাঁটি, প্রয়োজন হলে একটি ছোট পাওয়ার ন্যাপ এবং কাজের সঠিক পরিকল্পনা—এই কয়েকটি সহজ অভ্যাসই আপনাকে সারাদিন কর্মক্ষম ও সতেজ থাকতে সাহায্য করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ২০২৬ সেমিফাইনালের টিকিটের দাম কত?

অফিসে অনবরত হাই উঠছে? মুহূর্তেই চাঙা হওয়ার উপায়

Update Time : ০৯:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

অফিসে কাজ করতে করতেই যদি বারবার হাই ওঠে, চোখে ঘুম ভর করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজেও মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরে পানির ঘাটতি, দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা কিংবা দুপুরের খাবারের পর স্বাভাবিক ক্লান্তি—এসব কারণেই এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে খুব দ্রুতই ঝিমুনি কাটিয়ে কাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

কেন অফিসে বারবার ঘুম পায়?

অনেকেই মনে করেন, শুধু রাতে কম ঘুমানোর কারণেই দিনের বেলা ঘুম পায়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকের দুপুরের পর ক্লান্তি আসে। এর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে।

  • দুপুরের খাবারের পর শরীরের স্বাভাবিক ক্লান্তি
  • দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে কাজ করা
  • পর্যাপ্ত পানি পান না করা
  • মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত কাজের চাপ
  • একই ধরনের কাজে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা

এসব কারণ মিলেই কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং অফিসে বারবার হাই ওঠা শুরু হয়।

১. সুযোগ থাকলে নিন একটি পাওয়ার ন্যাপ

ঘুমের কারণে যদি কাজ এগোতেই না চায়, তাহলে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি ছোট্ট পাওয়ার ন্যাপ বেশ কার্যকর হতে পারে।

স্বল্প সময়ের এই বিশ্রাম—

  • মস্তিষ্ককে সতেজ করে
  • মনোযোগ বাড়ায়
  • ক্লান্তি কমায়
  • কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে

তবে অবশ্যই দীর্ঘ সময় ঘুমানো উচিত নয়। বেশি সময় ঘুমালে উল্টো আরও ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে।

২. এক কাপ চা বা কফি হতে পারে দ্রুত সমাধান

অফিসে ঘুমানোর সুযোগ না থাকলে এক কাপ গরম কফি বা চা আপনাকে কিছুটা সতেজ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে।

কফিতে থাকা ক্যাফেইন—

  • ঘুমভাব কমায়
  • সাময়িকভাবে শক্তি বাড়ায়
  • মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে

তবে অতিরিক্ত কফি পান না করাই ভালো। বিশেষ করে বিকেলের পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. চেয়ার ছেড়ে একটু হাঁটুন

একটানা বসে থাকলে শরীরে অলসতা আরও বাড়ে। তাই প্রতি ঘণ্টায় অন্তত কয়েক মিনিট উঠে দাঁড়ানো ভালো।

আপনি যা করতে পারেন—

  • অফিসের করিডরে কয়েক মিনিট হাঁটুন
  • হাত-পা স্ট্রেচিং করুন
  • জানালার পাশে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ান
  • সম্ভব হলে একটু খোলা বাতাসে সময় কাটান

এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শরীর দ্রুত চাঙা হয়ে ওঠে।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীরে পানির ঘাটতি থাকলেও ক্লান্তি ও ঝিমুনি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

  • ডেস্কে সব সময় পানির বোতল রাখুন
  • অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি পান করুন
  • তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন

পর্যাপ্ত পানি শরীরকে সচল রাখার পাশাপাশি মনোযোগও বাড়াতে সাহায্য করে।

৫. কঠিন কাজগুলো সকালে শেষ করুন

দিনের শুরুতে মানুষের কর্মশক্তি সাধারণত বেশি থাকে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজগুলো সকালের দিকেই শেষ করার চেষ্টা করুন।

এর ফলে—

  • দুপুরের ক্লান্তির সময় সহজ কাজ করা যায়
  • কাজের চাপ কম অনুভূত হয়
  • উৎপাদনশীলতা বাড়ে
  • মানসিক চাপও কমে

দুপুরের খাবারেও রাখুন সতর্কতা

ভারী ও অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার দুপুরের পর ঘুমভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দুপুরের খাবারে পরিমিত ভাত, শাকসবজি, প্রোটিন ও ফল রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত মিষ্টি বা সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলাও ভালো।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত বিশ্রামের পরও প্রতিদিন অতিরিক্ত ঘুমভাব থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিচের লক্ষণগুলো থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিন—

  • প্রতিদিন অফিসে অতিরিক্ত ঝিমুনি
  • রাতে ভালো ঘুম হলেও ক্লান্তি না কমা
  • কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
  • দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা চলতে থাকা

এসব ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা, হরমোনজনিত অসুবিধা বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অফিসে মাঝে মাঝে ক্লান্তি বা হাই ওঠা স্বাভাবিক হলেও এটি যদি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জীবনযাপন ও কাজের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পানি পান, অল্প হাঁটাহাঁটি, প্রয়োজন হলে একটি ছোট পাওয়ার ন্যাপ এবং কাজের সঠিক পরিকল্পনা—এই কয়েকটি সহজ অভ্যাসই আপনাকে সারাদিন কর্মক্ষম ও সতেজ থাকতে সাহায্য করতে পারে।