ডে নেটিং সুবিধা চালুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে দিনে দিনে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হলেও চূড়ান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে লেনদেনের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আধুনিক ও গতিশীল লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এ সুবিধা চালু করতে পারবে। এখন থেকে বাস্তবায়নের জন্য সফটওয়্যার, নীতিমালা ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
ডে নেটিং সুবিধা চালুর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান সম্প্রতি জানান, প্রাথমিকভাবে ভালো মানের ও স্থিতিশীল কোম্পানির শেয়ার দিয়েই এই সুবিধা চালু করা হবে। ফলে শুরুতেই সব শেয়ার নয়, নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ার এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ডিএস-৩০ সূচকে থাকা প্রায় ৩০টি মানসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে ডে নেটিং সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে শেয়ার কেনা ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে বাজারে তারল্য বাড়বে, লেনদেনও আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, একই কমিশন সভায় রয়েল ফুটওয়্যারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বিক্রি করে মোট ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। সংগ্রহ করা অর্থ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কাঁচামাল ক্রয় এবং প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহে ব্যবহার করা হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালের মার্চের পর এটিই বিএসইসির অনুমোদিত প্রথম নতুন আইপিও।
এ ছাড়া সভায় মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। জনমত যাচাইয়ের জন্য সংশোধিত খসড়া বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান অবলুপ্তির সিদ্ধান্তও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো দেশের পুঁজিবাজারকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।



























