কিশোরগঞ্জ বিএনপি নেতা হত্যা ঘটনাকে ঘিরে পুরো মিঠামইন উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা বিএনপির পদ স্থগিত সভাপতি জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫২) দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় তাঁর বাগানবাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা বিএনপির কর্মী হাদিস মিয়াও গুরুতর আহত হন।
দলীয় সূত্র জানায়, রাতের দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন জাহিদুল আলম। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিন থেকে চারজন সশস্ত্র হামলাকারী তাঁদের পথরোধ করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রথমে তাঁদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জাহিদুল আলমের মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত হাদিস মিয়ার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কয়েকটি মেহগনিগাছ কেটে ফেলার অভিযোগে এর আগে জাহিদুল আলমের বিএনপির সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছিল। একই ঘটনায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ বিএনপি নেতা হত্যা ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণ রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



























