মাংস শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস হলেও অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রতিদিন রান্না করা অবস্থায় ৭০ গ্রামের বেশি লাল বা প্রক্রিয়াজাত মাংস না খাওয়াই ভালো। পাশাপাশি কম চর্বিযুক্ত মাংস বেছে নেওয়া, নিরাপদভাবে রান্না করা এবং খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, ডাল ও শাকসবজি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাংসে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, দস্তা, ভিটামিন বি-১২সহ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান পেশি গঠন, রক্ত তৈরিতে সহায়তা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মাংসের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস থেকেও পুষ্টি গ্রহণ করা উচিত।
লাল মাংস কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নিয়মিত গরু বা খাসির মাংস খান, তাদের প্রতিদিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
মনে রাখুন:
- প্রতিদিন রান্না করা লাল বা প্রক্রিয়াজাত মাংস ৭০ গ্রামের বেশি না খাওয়াই ভালো।
- একবারে বেশি না খেয়ে সপ্তাহজুড়ে পরিমিতভাবে ভাগ করে খাওয়া স্বাস্থ্যকর।
- অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ধীরে ধীরে পরিমাণ কমানো উচিত।
অতিরিক্ত লাল মাংস খেলে কী ঝুঁকি?
অতিরিক্ত লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি:
- অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে সসেজ, কাবাব, সালামি বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংসে সাধারণত লবণ ও সংরক্ষণকারী উপাদান বেশি থাকে। তাই এসব খাবার যতটা সম্ভব সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কম চর্বিযুক্ত মাংস কেন বেছে নেবেন?
চর্বিযুক্ত মাংসে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস:
- মাংস কেনার সময় কম চর্বিযুক্ত অংশ বেছে নিন।
- রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি ও চামড়া ফেলে দিন।
- ডিপ ফ্রাইয়ের পরিবর্তে গ্রিল, সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করুন।
- রান্নায় বেশি পরিমাণে সবজি যোগ করলে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ে।
কলিজা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
কলিজায় আয়রন ও ভিটামিন এ প্রচুর পরিমাণে থাকে। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন এ দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে হাড়ের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
- নিয়মিত বেশি পরিমাণে কলিজা খাবেন না।
- গর্ভবতী নারীদের কলিজা ও কলিজাজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
গর্ভাবস্থায় মাংস খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় মাংস খাওয়া নিরাপদ হলেও তা অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করা থাকতে হবে।
যা মেনে চলবেন:
- কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মাংস খাবেন না।
- মাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
- কলিজা ও কলিজাজাত খাবার এ সময় এড়িয়ে চলুন।
মাংস সংরক্ষণ ও রান্নার সময় করণীয়
খাদ্যজনিত সংক্রমণ এড়াতে মাংস সংরক্ষণ ও রান্নার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
করণীয়:
- কাঁচা মাংস ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফ্রিজে রাখুন।
- রান্না করা খাবার থেকে আলাদা সংরক্ষণ করুন।
- মাংস ধোয়ার পরিবর্তে ভালোভাবে রান্না করুন।
- মুরগি, গরু, খাসি, কিমা ও প্রক্রিয়াজাত মাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খান।
- রান্নার পর মাংসের ভেতরে গোলাপি অংশ বা রক্তের মতো তরল যেন না থাকে।
সুস্থ থাকতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংস সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, কম চর্বিযুক্ত অংশ বেছে নেওয়া, প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত রাখা এবং নিরাপদভাবে রান্না করার অভ্যাস গড়ে তুললেই স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি ও ফল রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা সহজ হয়।





























