রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে একই এলাকায় পৃথক দুটি ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুখানপুকুর এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুটি ঘটনা। একটি ঘটনায় চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় এবং অন্য ঘটনায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রাণ হারান দুই নারী।
নিহতরা হলেন উপজেলার দক্ষিণ দুধিয়াবাড়ী গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪৫) এবং তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পরাণ গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে আইরীন আক্তার ত্বারীন (২১)।
পীরগাছা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার জেনারুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ ট্রেন পীরগাছা স্টেশনে ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। এ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস স্টেশনে প্রবেশের সময় সুখানপুকুর এলাকায় রেললাইন অতিক্রম করার সময় রাশেদা বেগম ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রথম ঘটনার প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট পর, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পদ্মরাগ ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে আউটার সিগন্যালের দিকে যাওয়ার সময় আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, আইরীন আক্তার ত্বারীন রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন। এতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাহেব গণি বলেন,
“দুই মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুটি ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রথম দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটায় মানুষ হতবাক হয়ে যান। দুই ঘটনার পরই রেললাইন এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম ঘটনায় এটি দুর্ঘটনা নাকি অসাবধানতাবশত রেললাইন পার হওয়ার সময় সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী আত্মহত্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সবাইকে নির্ধারিত রেলক্রসিং ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রেললাইন ধরে হাঁটা বা অননুমোদিত স্থানে পারাপার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
দুই নারীর আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।




























