এনোলা হোমস ৩ মুক্তির পর থেকেই নেটফ্লিক্সে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সিনেমাটি ৩ কোটি ৩০ লাখ ভিউ পেয়ে বৈশ্বিক টপ চার্টে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশেও এটি দর্শকদের অন্যতম পছন্দের সিনেমায় পরিণত হয়েছে।
এই কিস্তিতে এনোলা হোমসকে দেখা যায় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। বিয়ের প্রস্তুতির মাঝেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তার ভাই শার্লক হোমস। ব্যক্তিগত জীবন আর গোয়েন্দা পরিচয়ের দ্বন্দ্বের মধ্যেই শুরু হয় নতুন এক অভিযাত্রা।
শার্লককে খুঁজে বের করতে গিয়ে এনোলার সামনে খুলে যায় বড় এক ষড়যন্ত্রের জাল। পুরোনো শত্রুতা, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের গোপন ইতিহাস মিলিয়ে গল্প এগোয় দ্রুত গতিতে। রহস্যের পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কও সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
মিলি ববি ব্রাউন আবারও এনোলা চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাহসী গোয়েন্দা হিসেবে তার উপস্থিতি পুরো সিনেমাকে প্রাণবন্ত করেছে। হেনরি ক্যাভিলের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও চরিত্রটি গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিত্রনাট্যের সবচেয়ে বড় শক্তি এর গতি এবং ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। মাল্টার মনোরম লোকেশন, ভিক্টোরিয়ান সেট ডিজাইন ও সুন্দর সিনেমাটোগ্রাফি দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে রহস্যের জট খুলে যাওয়ার ধরন কিছুটা সহজ হওয়ায় অভিজ্ঞ গোয়েন্দা গল্পপ্রেমীদের কাছে এটি প্রত্যাশার তুলনায় কম চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে।
সব মিলিয়ে এনোলা হোমস ৩ পারিবারিক রহস্য-অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার একটি উপভোগ্য সিনেমা। প্রথম দুই কিস্তির ভক্তদের জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে, আর যারা হালকা রহস্য ও দ্রুতগতির গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্যও সিনেমাটি হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ।

























