দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই থেকে টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড় ধসের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মন্ত্রণালয়ের শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টার হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ আবাসন, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলার চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২৯৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য নগদ অর্থ, চাল, ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণ সহায়তা একযোগে বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব জেলায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেবে, সেসব এলাকায় দ্রুত অতিরিক্ত ত্রাণ বরাদ্দ পাঠানো হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার সরঞ্জাম, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছু নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। তাই নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঘটনা বেড়েছে। ফলে পার্বত্য অঞ্চল ও নদী অববাহিকায় বন্যার ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক বেশি। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, পাহাড় সংরক্ষণ, নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, কৃষকদের সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।





























