কারেন্ট জাল অভিযান পরিচালনা করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদী থেকে এক হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে নৌ পুলিশ। একই অভিযানে সালমান (২১) নামে এক জেলেকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মুন্সীবাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এই জাল জব্দ করা হয়। আটক সালমান গোয়ালন্দ উপজেলার চরকাঁচরন্দ গ্রামের আজিজ মণ্ডলের ছেলে।
দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, জাটকা ও অন্যান্য দেশীয় মাছ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পদ্মা নদীর মুন্সীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করার সময় সালমানকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় এক হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দ করা নিষিদ্ধ জাল আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ধ্বংস করা হবে। নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার, জাটকা নিধন এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে নৌ পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কারেন্ট জাল অভিযান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারেন্ট জাল অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে শুধু বড় মাছ নয়, ছোট মাছ, জাটকা, মাছের ডিম এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এ কারণেই বাংলাদেশে কারেন্ট জালের উৎপাদন, বিক্রি, বহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ।
নৌ পুলিশ আরও জানায়, পদ্মা নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার রোধে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুম ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের সময় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যাতে কেউ অবৈধভাবে মাছ শিকার করতে না পারে।
স্থানীয় জেলেদের একটি অংশ জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার অনেকটাই কমে আসে। এতে বৈধভাবে মাছ ধরা জেলেরা উপকৃত হন এবং নদীতে মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। তারা অবৈধ জাল বিক্রি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর করতে হবে। তাহলে নদীর মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, কারেন্ট জাল অভিযান নিয়মিত চলবে। কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বা অবৈধভাবে মাছ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।





























