ভৈরব নদে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরে গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার বর্ণা (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মশরহাটী গ্রামে ভৈরব সেতুসংলগ্ন একটি বালুবাহী ট্রলারের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযান শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত ফাতেমা আক্তার বর্ণা অভয়নগর উপজেলার মশরহাটী গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে এবং মানিকগঞ্জের রবিউল ইসলামের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে মশরহাটী গ্রামের মালোপাড়া এলাকার মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমে তিনি হঠাৎ নদীর স্রোতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নওয়াপাড়া নৌপুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের প্রধান শহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তবে অন্ধকার নেমে আসায় অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। শনিবার সকাল থেকে আবারও অভিযান শুরু হয় এবং রাত ৮টার দিকে ভৈরব সেতুর পাশে একটি বালুবাহী ট্রলারের কাছে মরদেহটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ভৈরব নদে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, নদীতে গোসল করতে নেমে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ডুবুরি দল মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে বর্ণার স্বামী রবিউল ইসলাম বলেন, তার স্ত্রী অত্যন্ত শান্ত ও ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তিনি সবার কাছে বর্ণার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া কামনা করেন।
নওয়াপাড়া নৌপুলিশের ইনচার্জ এসআই রনজিত কুমার সেন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে ভৈরব নদে পানির প্রবাহ ও স্রোত অনেক বেড়ে যায়। অনেকেই প্রতিদিন গোসল বা অন্যান্য প্রয়োজনে নদীতে নামলেও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলক কম। স্থানীয়দের দাবি, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ঘাটগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, লাইফ বয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে নদীতে নামার আগে পানির গভীরতা ও স্রোতের গতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একা নদীতে গোসল না করা, শিশুদের নজরদারিতে রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস বা নৌপুলিশকে খবর দেওয়া হলে উদ্ধার অভিযান আরও কার্যকর হয়। সচেতনতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে নদীতে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানো সম্ভব।



























