প্রথমার্ধে চার গোল হজম করে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ফ্রান্স। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২১ মিনিটের মধ্যে টানা তিন গোল করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড, তবু ম্যাচে ফিরে এসে নতুন করে লড়াই জমিয়ে তুলেছে ফরাসিরা।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান ডেক্লান রাইস। এরপর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে জাল কাঁপিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এত দ্রুত গোল খেয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স।
১২তম মিনিটে কায়ো সাকা আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৮তম মিনিটে রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন এজরা কনসা। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইংল্যান্ড।
প্রথমার্ধের শেষ ভাগে ইংল্যান্ডের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৩৭তম মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের বাড়ানো বল থেকে গোল করেন বুকায়ো সাকা। এরপর যোগ করা সময়ে কনসার পাস পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলও তুলে নেন তিনি। ফলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ইংলিশরা।
বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে মাঠে নামে ফ্রান্স। ৪৮তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মাইকেল ওলিসের পাস পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে প্রথম গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেই গোলের পরই আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ফরাসিরা এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে চাপ বাড়াতে থাকে।
চাপের ধারাবাহিকতায় ৫৪তম মিনিটে ব্যবধান আরও কমায় ফ্রান্স। এবার এমবাপ্পের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার জোরালো বার্তা দেয় দেশমের দল। এতে ইংল্যান্ডের ওপর চাপও বাড়তে থাকে।
এরপর ৬৬তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন এমবাপ্পে। মাইকেল ওলিসের পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরাসি অধিনায়ক। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২১ মিনিটেই তিন গোল শোধ করে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনে ফ্রান্স। একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছেন এমবাপ্পে। চার গোলের বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলেও শেষ পর্যন্ত কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই লড়াই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় আগ্রহের বিষয়।





























