ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিয়োগ: ৯ম-২০তম গ্রেডে ১৮৫ পদে আবেদন শুরু Logo ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল আসছে, আগেই প্রকাশের ইঙ্গিত পিএসসির Logo পাবনার হোসিয়ারিশিল্প সংকটে, ভারত রপ্তানি বন্ধে বন্ধ হচ্ছে কারখানা Logo জয়া আহসানের নতুন সিনেমা | ভারতীয় সমালোচকদের দুর্দান্ত প্রশংসায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ Logo স্বর্ণের দাম বেড়েছে: ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা Logo মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যু: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মা-মেয়েসহ ৩ জন নিহত Logo লামিন ইয়ামালের বিলাসবহুল ঘড়ি সংগ্রহে নজর কাড়ছে যে টাইমপিসগুলো Logo সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা? Logo আইফোন ১৮ প্রো লঞ্চের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ, সেপ্টেম্বরেই আসছে নতুন আইফোন? Logo ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ: আয়োজক দেশ, সূচি ও নতুন ফরম্যাটে যা জানা গেছে

যে কারণে বাতিল হলো নিকো উইলিয়ামসের গোল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৩

রেফারির সিদ্ধান্তে গোলের স্বীকৃতি পাননি নিকো উইলিয়ামস

স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ছিল নিকো উইলিয়ামসের বাতিল হয়ে যাওয়া গোল। অতিরিক্ত সময়ের ৯৬তম মিনিটে স্পেনের এই ফরোয়ার্ড বল জালে পাঠিয়েছিলেন। তবে উদযাপন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রেফারির বাঁশি বাজে এবং গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে রিপ্লে ও রেফারির ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়, গোলের আগে সংঘটিত একটি ফাউলের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ম্যাচটি গোলশূন্য অবস্থায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। এর আগে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেন আক্রমণের গতি বাড়ায় এবং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই স্পেন আক্রমণ গড়ে তোলে। আর্জেন্টিনার গোলমুখে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বল উইলিয়ামসের সামনে চলে আসে। ফাঁকা পোস্ট পেয়ে তিনি সহজেই বল জালে জড়িয়ে ফেলেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকরা উল্লাসে মেতে উঠলেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

রেফারি সঙ্গে সঙ্গে গোলের স্বীকৃতি না দিয়ে ফাউলের সংকেত দেন। শুরুতে অনেকের ধারণা ছিল, আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ওপর ফাউল হওয়ায় গোলটি বাতিল হয়েছে। কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লে দেখার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়। গোলরক্ষকের নয়, ফাউলটি ধরা হয় আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির বিপক্ষে।

রিপ্লেতে দেখা যায়, বল দখলের চেষ্টায় স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো অনিচ্ছাকৃতভাবে ওতামেন্দির পায়ের ওপর স্টাড দিয়ে ফেলেন। রেফারি এটিকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই খেলা থামিয়ে দেন। যেহেতু বাঁশি বাজানোর পর বল জালে যায়, তাই সেই গোলকে বৈধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ আর ছিল না।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ চলাকালেই আলোচনা শুরু হয়। অনেক দর্শক ও বিশ্লেষক মনে করেন, সংস্পর্শটি খুবই সামান্য ছিল এবং গোলটি বহাল রাখা যেত। আবার অনেক সাবেক রেফারি ও নিয়ম বিশ্লেষকের মতে, প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর স্টাড লাগলে সেটি ফাউল হিসেবে গণ্য হওয়াই স্বাভাবিক। ফলে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত ফুটবল আইনের মধ্যেই পড়ে।

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি। কারণ, রেফারি গোল হওয়ার আগেই ফাউলের জন্য খেলা থামিয়ে দিয়েছিলেন। ফুটবলের আইন অনুযায়ী, খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যে ঘটনা ঘটে, সেটিকে গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। এ কারণেই VAR-এর হস্তক্ষেপে গোলটি ফিরিয়ে আনার সুযোগ ছিল না।

বাতিল হওয়া গোলটি ম্যাচের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত স্পেনের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়েই তারা কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় এবং ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের করে নেয়। তবুও নিকো উইলিয়ামসের বাতিল হওয়া গোলটি ফাইনালের সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিয়োগ: ৯ম-২০তম গ্রেডে ১৮৫ পদে আবেদন শুরু

যে কারণে বাতিল হলো নিকো উইলিয়ামসের গোল

Update Time : ০৫:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ছিল নিকো উইলিয়ামসের বাতিল হয়ে যাওয়া গোল। অতিরিক্ত সময়ের ৯৬তম মিনিটে স্পেনের এই ফরোয়ার্ড বল জালে পাঠিয়েছিলেন। তবে উদযাপন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রেফারির বাঁশি বাজে এবং গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে রিপ্লে ও রেফারির ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়, গোলের আগে সংঘটিত একটি ফাউলের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ম্যাচটি গোলশূন্য অবস্থায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। এর আগে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেন আক্রমণের গতি বাড়ায় এবং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  অবিস্মরণীয় ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল, স্পেনের ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই স্পেন আক্রমণ গড়ে তোলে। আর্জেন্টিনার গোলমুখে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বল উইলিয়ামসের সামনে চলে আসে। ফাঁকা পোস্ট পেয়ে তিনি সহজেই বল জালে জড়িয়ে ফেলেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকরা উল্লাসে মেতে উঠলেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

রেফারি সঙ্গে সঙ্গে গোলের স্বীকৃতি না দিয়ে ফাউলের সংকেত দেন। শুরুতে অনেকের ধারণা ছিল, আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ওপর ফাউল হওয়ায় গোলটি বাতিল হয়েছে। কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লে দেখার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়। গোলরক্ষকের নয়, ফাউলটি ধরা হয় আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির বিপক্ষে।

রিপ্লেতে দেখা যায়, বল দখলের চেষ্টায় স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো অনিচ্ছাকৃতভাবে ওতামেন্দির পায়ের ওপর স্টাড দিয়ে ফেলেন। রেফারি এটিকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই খেলা থামিয়ে দেন। যেহেতু বাঁশি বাজানোর পর বল জালে যায়, তাই সেই গোলকে বৈধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ আর ছিল না।

আরও পড়ুন  মেসির গোল হলে ভিনির কেন নয়? ফিফায় ব্রাজিলের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ চলাকালেই আলোচনা শুরু হয়। অনেক দর্শক ও বিশ্লেষক মনে করেন, সংস্পর্শটি খুবই সামান্য ছিল এবং গোলটি বহাল রাখা যেত। আবার অনেক সাবেক রেফারি ও নিয়ম বিশ্লেষকের মতে, প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর স্টাড লাগলে সেটি ফাউল হিসেবে গণ্য হওয়াই স্বাভাবিক। ফলে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত ফুটবল আইনের মধ্যেই পড়ে।

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি। কারণ, রেফারি গোল হওয়ার আগেই ফাউলের জন্য খেলা থামিয়ে দিয়েছিলেন। ফুটবলের আইন অনুযায়ী, খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যে ঘটনা ঘটে, সেটিকে গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। এ কারণেই VAR-এর হস্তক্ষেপে গোলটি ফিরিয়ে আনার সুযোগ ছিল না।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের নতুন বক্তব্য

বাতিল হওয়া গোলটি ম্যাচের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত স্পেনের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়েই তারা কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় এবং ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের করে নেয়। তবুও নিকো উইলিয়ামসের বাতিল হওয়া গোলটি ফাইনালের সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে।