প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত, সহজলভ্য ও কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ যেন সহজে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত পাঁচ মাসে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। কর্মকর্তারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, সরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যেন চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য না হন, সে লক্ষ্যে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক আচরণের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে দক্ষ জনবল বৃদ্ধি এবং হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে বর্তমান ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতাল থেকে আরও ভালো সেবা পাবেন।
কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে যেসব জেলায় ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে, সেগুলোকে ধাপে ধাপে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে শুধু হাসপাতাল নির্মাণ নয়, বরং চিকিৎসকের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান এবং চিকিৎসার জন্য কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যখাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।



























