ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভিসা জালিয়াতি: এক নারীর ভিসায় ইতালি গেলেন অন্যজন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১১

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে এক নারীর পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে সাত সদস্যের একটি মানব পাচার চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। চক্রটির বিরুদ্ধে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ, একটি এম্বোস সিল এবং আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করেন। স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। পরে পাসপোর্ট নবায়নের সময় এক ব্যক্তির মাধ্যমে একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে পরিচয় হয়। সেখানে ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করা হয়।

ভিসা হওয়ার পর অভিযুক্তরা পাসপোর্ট ফেরত দিতে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে। পাসপোর্ট ফিরে পেতে ভুক্তভোগী নারী দুই দফায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপর তিনি পাসপোর্ট হাতে পান এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।

কিন্তু নির্ধারিত দিনে ঢাকার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় তিনি জানতে পারেন, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে আগেই অন্য এক নারী ইতালি চলে গেছেন। পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ করেন।

প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে বিদেশে যেতে আগ্রহীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিল। প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটির মূল অভিযুক্ত ২০১৬ সাল থেকে প্রায় ৩০ জনকে একই পদ্ধতিতে ইতালি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে এবং চক্রটির অন্য সদস্য ও সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ভিসা জালিয়াতি: এক নারীর ভিসায় ইতালি গেলেন অন্যজন

Update Time : ০৭:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে এক নারীর পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে সাত সদস্যের একটি মানব পাচার চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। চক্রটির বিরুদ্ধে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ, একটি এম্বোস সিল এবং আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০২৬ কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করেন। স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। পরে পাসপোর্ট নবায়নের সময় এক ব্যক্তির মাধ্যমে একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে পরিচয় হয়। সেখানে ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করা হয়।

ভিসা হওয়ার পর অভিযুক্তরা পাসপোর্ট ফেরত দিতে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে। পাসপোর্ট ফিরে পেতে ভুক্তভোগী নারী দুই দফায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপর তিনি পাসপোর্ট হাতে পান এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।

আরও পড়ুন  সলিমপুরের আদলে টেকনাফের বাহারছড়ায় যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা

কিন্তু নির্ধারিত দিনে ঢাকার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় তিনি জানতে পারেন, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে আগেই অন্য এক নারী ইতালি চলে গেছেন। পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ করেন।

প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে বিদেশে যেতে আগ্রহীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিল। প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটির মূল অভিযুক্ত ২০১৬ সাল থেকে প্রায় ৩০ জনকে একই পদ্ধতিতে ইতালি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে এবং চক্রটির অন্য সদস্য ও সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল, নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ৩