ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কয়লা কেলেঙ্কারিতে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ

নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি পদত্যাগ করেছেন।ছবি- সংগ্রহীত

নিম্নমানের কয়লা আমদানিকে ঘিরে সমালোচনা ও জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তর থেকে জানানো হয়, তদন্ত প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এদিন সকালে তারা তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বলেন, সরকার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়। তার দাবি, কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং জ্বালানি মন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় কোনো অনিয়মের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

সরকার জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর লক্ষ্য হলো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ইতোমধ্যে ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য করা সব কয়লা আমদানির ওপর বিস্তৃত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে তিনি স্বীকার করেন, নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র Lakvijaya Power Plant-এর উৎপাদন সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সাম্প্রতিক এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। উৎপাদন ঘাটতি সামাল দিতে সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করতে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শ্রীলঙ্কার জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কয়লা কেলেঙ্কারিতে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ

Update Time : ১১:১৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

নিম্নমানের কয়লা আমদানিকে ঘিরে সমালোচনা ও জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তর থেকে জানানো হয়, তদন্ত প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এদিন সকালে তারা তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বলেন, সরকার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়। তার দাবি, কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং জ্বালানি মন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় কোনো অনিয়মের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  অবকাঠামোতে হামলায় বিশ্বজুড়ে প্রভাব পড়বে: ইরান

সরকার জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর লক্ষ্য হলো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ইতোমধ্যে ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য করা সব কয়লা আমদানির ওপর বিস্তৃত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে তিনি স্বীকার করেন, নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র Lakvijaya Power Plant-এর উৎপাদন সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন  ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল উদ্ভাবন তথ্য

সাম্প্রতিক এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। উৎপাদন ঘাটতি সামাল দিতে সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করতে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শ্রীলঙ্কার জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: খসড়ায় ঐকমত্যের ইঙ্গিত