ইয়ামি গৌতমের অভিনয়জীবনে যুক্ত হলো এক গৌরবময় অধ্যায়। ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জনের পর আবেগঘন বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, এই অর্জন কোনো স্বপ্নের শেষ নয়, বরং আরও বড় দায়িত্ব ও নতুন পথচলার সূচনা। দীর্ঘ ১৪ বছরের অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং অভিনয়ের প্রতি অটুট ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এই সম্মানকে দেখছেন।
পুরস্কার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইয়ামি লেখেন, জীবনের প্রতিটি যাত্রায় এমন একটি মুহূর্ত আসে, যা মনে করিয়ে দেয় কেন কখনো হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এমন একটি সম্মান, যা তিনি সারাজীবন হৃদয়ে ধারণ করবেন। তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়া এবং নিজের অভিনয়কে কথা বলতে দেওয়ার ফলই আজকের এই অর্জন।
‘আর্টিকেল ৩৭০’ শুধু ইয়ামির জন্য নয়, পুরো টিমের জন্যও বিশেষ সাফল্য এনে দিয়েছে। সিনেমাটি সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কারও জিতেছে। ইয়ামি জানান, শুরু থেকেই তিনি এই গল্পের প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাস রেখেছিলেন। শুটিংয়ের প্রতিটি দিন, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল গল্পটিকে সততা ও দায়িত্বের সঙ্গে দর্শকের সামনে তুলে ধরার প্রচেষ্টা।
পাঞ্জাবি চলচ্চিত্র নির্মাতা মুকেশ গৌতমের মেয়ে হলেও ইয়ামি গৌতমের বেড়ে ওঠা ছিল সাধারণ পরিবেশে। হিমাচল প্রদেশে শৈশব কাটিয়ে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান তিনি। ২০০৮ সালে ছোট পর্দার ধারাবাহিক ‘চাঁদ কে পার চলো’-এর মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন। পরে কন্নড় সিনেমায় বড় পর্দায় অভিষেক হলেও ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আলোচনায় আসেন। এরপর ‘কাবিল’, ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, ‘বালা’, ‘আ থার্সডে’, ‘লস্ট’, ‘দশভি’ এবং ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর মতো চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
ইয়ামির মতে, একটি সিনেমা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চিত্রনাট্য। গল্প যদি বাস্তবধর্মী হয় এবং চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকে, তাহলে সেই কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকে অনেক সময় অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছেন। তবে সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি নিজের শক্তিতে পরিণত করেছেন এবং প্রতিটি নতুন চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন।
বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি সুখী পারিবারিক জীবনও উপভোগ করছেন ইয়ামি গৌতম। ২০২১ সালে পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ২০২৪ সালে তাঁদের ঘরে আসে পুত্রসন্তান বেদাভিদ। পরিবারকে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে ইয়ামি বলেন, জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁর শেষ বার্তাও ছিল অনুপ্রেরণামূলক—যাঁরা এখনো নিজেদের স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের কখনো আশা হারানো উচিত নয়।



























