বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন—এ প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামির দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা। যদিও এ বিষয়ে সরকার বা রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম আলোচনায় রয়েছে।
এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মতামত দিলেও এখন পর্যন্ত দাবিগুলোর কোনো সরকারি বা নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলে আসছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। কয়েক দফা আন্দোলনও হয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি একজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন থাকলেও বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শুধুমাত্র গুঞ্জনের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ—দুই বিষয়েই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। ফলে নাসিমুল গণি বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এমন দাবি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
পরিস্থিতির ওপর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের নজর রয়েছে। যদি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, তবে সেটিই হবে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস।




























