ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত Logo এনসিপির কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo বাংলাদেশের পাসপোর্ট আরও দুর্বল, উগান্ডাও এখন অনেক এগিয়ে Logo বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সুখবর, বেড়ে ছাড়াল ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার Logo শিশুদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে কার্যকর হতে পারে জিএলপি-১ ইনজেকশন Logo ভেজানো কিশমিশে উপকারিতা: প্রতিদিন খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? Logo ট্রাম্পের চুক্তিতে সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন Logo হিটলারের জন্মবাড়িতে এবার থানা, কেন নিল অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত? Logo অরিজিৎ সিং ফিরলেন: ‘আওয়ারাপন ২’-এর নতুন গানে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন Logo আনারস খেলে কী উপকার? জানুন ১০টি চমকপ্রদ স্বাস্থ্যগুণ

হিটলারের জন্মবাড়িতে এবার থানা, কেন নিল অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ শহরে অ্যাডলফ হিটলারের জন্মবাড়ি, যা এখন পুলিশ স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ শহরে অ্যাডলফ হিটলারের জন্মবাড়ি দীর্ঘ সংস্কার শেষে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ স্টেশন হিসেবে উদ্বোধন করা হচ্ছে। নব্য-নাৎসিদের সমাগম ও ভবনটিকে তীর্থস্থলে পরিণত করার প্রবণতা ঠেকাতে অস্ট্রিয়া সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় দুই কোটি ইউরো ব্যয়ে সংস্কার শেষে ভবনটি এখন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল অস্ট্রিয়ার ইন নদীর তীরবর্তী ব্রাউনাউ আম ইন শহরে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডলফ হিটলার। জন্মের সময় তাঁর বাবা–মা ওই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। তবে তাঁর জন্মের কয়েক মাস পরই পরিবারটি অন্যত্র চলে যায় এবং এরপর ভবনটির ব্যবহার বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে।

১৯৩৮ সালে অস্ট্রিয়া নাৎসি জার্মানির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ভবনটি কিনে নেয় নাৎসি পার্টি। তারা ভবনটিকে হিটলারকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভবনটি আবার আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে অস্ট্রিয়ান সরকার ভবনটি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক কাজে ব্যবহার করে। কখনো এটি গ্রন্থাগার, কখনো স্কুল, আবার একসময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মশালা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ২০১১ সালের পর থেকে ভবনটি দীর্ঘ সময় খালি পড়ে ছিল।

২০১৬ সালে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনটি সরকার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল, ভবনটি যেন নব্য-নাৎসিদের প্রতীকী সমাবেশস্থল বা তীর্থস্থানে পরিণত না হয়। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় সেখানে হিটলার-সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

পরে অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবনটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করে। কমিশন সুপারিশ করে, ভবনটি হয় সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে, নয়তো সরকারি প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা উচিত। শেষ পর্যন্ত সরকার পুলিশ স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ কয়েক বছরের সংস্কারের পর ভবনটি এখন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের জন্য প্রস্তুত। মূল ভবনের পাশাপাশি আশপাশের স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণেও স্থানীয় পুলিশ কমান্ড ও পরিদর্শন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। ভবনের বাইরে কোনো স্মারকফলক বা বিশেষ তথ্যফলকও রাখা হয়নি।

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিশনের সদস্য অস্কার ডয়চে বলেন, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভবনটিকে নাৎসি মতাদর্শের অনুসারীদের তীর্থস্থানে পরিণত হতে না দেওয়া। তাঁর মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পুলিশ স্টেশন হিসেবে ভবনটির ব্যবহার অতীতের অন্ধকার ইতিহাসের বিপরীতে শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।

কমিশনের আরেক সদস্য ও ইতিহাসবিদ অলিভার রাথকোলব জানান, প্রথমে ভবনটি একটি মানবিক কল্যাণ সংস্থার কাছে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটি বাস্তবায়িত না হলেও বর্তমানে এখানে থানা স্থাপন করায় হিটলার-ভক্তদের সমাগম অনেকটাই নিরুৎসাহিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

ব্রাউনাউ শহরের বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। স্থানীয় নাগরিক উদ্যোগের মুখপাত্র এভেলিনে ডল বলেন, শহরটি ইতিহাসের জন্য দায়ী নয়, কিন্তু বিশ্বজুড়ে এটি এমন একটি স্থান হিসেবেই পরিচিত থাকবে, যেখানে ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত স্বৈরশাসকের জন্ম হয়েছিল।

এর আগে জার্মানির মিউনিখে হিটলারের সর্বশেষ নিবন্ধিত বাসভবনও পুলিশ স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্তও একই বার্তা দিচ্ছে—যে ভবন একসময় নাৎসি ইতিহাসের প্রতীক ছিল, সেটিকে এখন গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং উগ্রবাদবিরোধী রাষ্ট্রীয় অবস্থানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত

হিটলারের জন্মবাড়িতে এবার থানা, কেন নিল অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত?

Update Time : ১১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ শহরে অ্যাডলফ হিটলারের জন্মবাড়ি দীর্ঘ সংস্কার শেষে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ স্টেশন হিসেবে উদ্বোধন করা হচ্ছে। নব্য-নাৎসিদের সমাগম ও ভবনটিকে তীর্থস্থলে পরিণত করার প্রবণতা ঠেকাতে অস্ট্রিয়া সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় দুই কোটি ইউরো ব্যয়ে সংস্কার শেষে ভবনটি এখন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল অস্ট্রিয়ার ইন নদীর তীরবর্তী ব্রাউনাউ আম ইন শহরে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডলফ হিটলার। জন্মের সময় তাঁর বাবা–মা ওই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। তবে তাঁর জন্মের কয়েক মাস পরই পরিবারটি অন্যত্র চলে যায় এবং এরপর ভবনটির ব্যবহার বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে।

১৯৩৮ সালে অস্ট্রিয়া নাৎসি জার্মানির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ভবনটি কিনে নেয় নাৎসি পার্টি। তারা ভবনটিকে হিটলারকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভবনটি আবার আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে অস্ট্রিয়ান সরকার ভবনটি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক কাজে ব্যবহার করে। কখনো এটি গ্রন্থাগার, কখনো স্কুল, আবার একসময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মশালা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ২০১১ সালের পর থেকে ভবনটি দীর্ঘ সময় খালি পড়ে ছিল।

২০১৬ সালে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনটি সরকার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল, ভবনটি যেন নব্য-নাৎসিদের প্রতীকী সমাবেশস্থল বা তীর্থস্থানে পরিণত না হয়। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় সেখানে হিটলার-সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

পরে অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবনটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করে। কমিশন সুপারিশ করে, ভবনটি হয় সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে, নয়তো সরকারি প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা উচিত। শেষ পর্যন্ত সরকার পুলিশ স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ কয়েক বছরের সংস্কারের পর ভবনটি এখন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের জন্য প্রস্তুত। মূল ভবনের পাশাপাশি আশপাশের স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণেও স্থানীয় পুলিশ কমান্ড ও পরিদর্শন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। ভবনের বাইরে কোনো স্মারকফলক বা বিশেষ তথ্যফলকও রাখা হয়নি।

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিশনের সদস্য অস্কার ডয়চে বলেন, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভবনটিকে নাৎসি মতাদর্শের অনুসারীদের তীর্থস্থানে পরিণত হতে না দেওয়া। তাঁর মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পুলিশ স্টেশন হিসেবে ভবনটির ব্যবহার অতীতের অন্ধকার ইতিহাসের বিপরীতে শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।

কমিশনের আরেক সদস্য ও ইতিহাসবিদ অলিভার রাথকোলব জানান, প্রথমে ভবনটি একটি মানবিক কল্যাণ সংস্থার কাছে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটি বাস্তবায়িত না হলেও বর্তমানে এখানে থানা স্থাপন করায় হিটলার-ভক্তদের সমাগম অনেকটাই নিরুৎসাহিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

ব্রাউনাউ শহরের বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। স্থানীয় নাগরিক উদ্যোগের মুখপাত্র এভেলিনে ডল বলেন, শহরটি ইতিহাসের জন্য দায়ী নয়, কিন্তু বিশ্বজুড়ে এটি এমন একটি স্থান হিসেবেই পরিচিত থাকবে, যেখানে ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত স্বৈরশাসকের জন্ম হয়েছিল।

এর আগে জার্মানির মিউনিখে হিটলারের সর্বশেষ নিবন্ধিত বাসভবনও পুলিশ স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্তও একই বার্তা দিচ্ছে—যে ভবন একসময় নাৎসি ইতিহাসের প্রতীক ছিল, সেটিকে এখন গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং উগ্রবাদবিরোধী রাষ্ট্রীয় অবস্থানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হবে।