একনেকে ৮ প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের এসব প্রকল্পের পাশাপাশি দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নতুন নীতিমালা করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে একনেকে অনুমোদনের পর অনেক প্রকল্পের কার্যাদেশ পেতে দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব সমস্যা কমাতে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প পুনর্বিন্যাস এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিনের বৈঠকে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মোট আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, বৃহত্তর দিনাজপুর সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র উন্নয়ন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প।
তবে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীর ভাঙনরোধ প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে এটি আবার একনেকে উপস্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার চারটি মূল দিক হলো—পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন, প্রকল্প পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু, প্রকল্পে বিলম্বের কারণ বিশ্লেষণ করে সমাধান এবং পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি, বিপিপিএ, বিবিএস, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা।
সরকারের আশা, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হবে, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে, জবাবদিহি বাড়বে এবং সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী হবে।

























