ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিদায়ী নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান তাঁর কাঁধে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ সক্ষমতা এবং পেশাদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে তাঁর সফল নেতৃত্ব কামনা করেন। জবাবে ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়া ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।
দীর্ঘ প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালনাগত ও পরিকল্পনাসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে নৌবাহিনীর অন্যতম দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দেশের বাইরেও তাঁর কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি রয়েছে। ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অসামান্য অবদানের জন্য তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সাফল্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।


























