ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫ ও গ্রেপ্তার ২ Logo বাংলাদেশ ইংল্যান্ড টেস্ট ২০২৭: দুর্দান্ত সুখবর, লর্ডসে খেলবে টাইগাররা Logo বড় আপডেট: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে নতুন বিতর্ক Logo নিট বিক্ষোভ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে আলোচনা নয়, বিরোধীদের কঠোর অবস্থান Logo নীরবে বাড়ছে শিশুদের ফ্যাটি লিভার, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা Logo অনুপ্রেরণাদায়ক পদযাত্রা: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হাঁটছেন ফাহিম Logo লিপস্টিকের রং দেখেই মিলতে পারে আপনার ব্যক্তিত্বের ইঙ্গিত Logo ডিজেল আমদানি প্রস্তাব স্থগিত: কেন বৈঠকে উঠল না ১৬ লাখ টনের অনুমোদন? Logo বর্ষায় বেশি ফেসওয়াশ? ত্বকের উজ্জ্বলতা হারাচ্ছেন না তো! Logo ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হলে দ্রুত যে ৮টি কাজ করবেন

ডিজেল আমদানি প্রস্তাব স্থগিত: কেন বৈঠকে উঠল না ১৬ লাখ টনের অনুমোদন?

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বিপিসির কার্যক্রম। ছবি: সংগৃহীত

ডিজেল আমদানি প্রস্তাব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সর্বশেষ বৈঠকে প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য প্রস্তুত করা ১৫টি প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ওঠেনি। ফলে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির পুরো প্রক্রিয়া আপাতত কিছুটা পিছিয়ে গেছে।

সরকারি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছিল। এসব প্রস্তাবের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয় করতে হলে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন।

বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য রওনা দিলেও তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণেই ডিজেল আমদানির প্রস্তাবগুলো ওই বৈঠকে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপত্র মূল্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দর দিয়েছে, আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছিল একেবারেই নতুন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ প্রশ্ন তুলতে না পারে।

তিনি জানান, প্রস্তাবগুলো দ্রুত আবার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজন হলে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমেও নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হতে পারে। ফলে ডিজেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না; বরং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, কাজাখস্তান, দুবাই ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিজেল কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অধিকাংশ প্রস্তাবে এক লাখ টন করে ডিজেল আমদানির কথা থাকলেও একটি প্রস্তাবে ১ লাখ ২৫ হাজার টন এবং আরেকটিতে ৫০ হাজার টন ডিজেল কেনার পরিকল্পনা ছিল।

ডিজেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটস (Arab Gulf) সূচক অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হওয়ায় চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা বাড়তে বা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখেই আগাম জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই দ্রুত অনুমোদন নিয়ে আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্পখাতে ডিজেলের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সময়মতো আমদানি সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সরকার বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, খুব শিগগিরই নতুন বৈঠকের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর বিপিসি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি আনতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৫ ও গ্রেপ্তার ২

ডিজেল আমদানি প্রস্তাব স্থগিত: কেন বৈঠকে উঠল না ১৬ লাখ টনের অনুমোদন?

Update Time : ০৩:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ডিজেল আমদানি প্রস্তাব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সর্বশেষ বৈঠকে প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য প্রস্তুত করা ১৫টি প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ওঠেনি। ফলে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির পুরো প্রক্রিয়া আপাতত কিছুটা পিছিয়ে গেছে।

সরকারি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছিল। এসব প্রস্তাবের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয় করতে হলে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন।

বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য রওনা দিলেও তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণেই ডিজেল আমদানির প্রস্তাবগুলো ওই বৈঠকে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপত্র মূল্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দর দিয়েছে, আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছিল একেবারেই নতুন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ প্রশ্ন তুলতে না পারে।

তিনি জানান, প্রস্তাবগুলো দ্রুত আবার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজন হলে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমেও নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হতে পারে। ফলে ডিজেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না; বরং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, কাজাখস্তান, দুবাই ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিজেল কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অধিকাংশ প্রস্তাবে এক লাখ টন করে ডিজেল আমদানির কথা থাকলেও একটি প্রস্তাবে ১ লাখ ২৫ হাজার টন এবং আরেকটিতে ৫০ হাজার টন ডিজেল কেনার পরিকল্পনা ছিল।

ডিজেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটস (Arab Gulf) সূচক অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হওয়ায় চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা বাড়তে বা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখেই আগাম জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই দ্রুত অনুমোদন নিয়ে আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্পখাতে ডিজেলের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সময়মতো আমদানি সম্পন্ন না হলে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সরকার বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, খুব শিগগিরই নতুন বৈঠকের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর বিপিসি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি আনতে পারবে।