ভেনিস উৎসব বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের জন্য নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দিল। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এই সিনেমা উৎসবের ‘হরাইজনস (Orizzonti)’ বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
উৎসব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত সিনেমার তালিকা প্রকাশ করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ বছর ‘হরাইজনস’ বিভাগে মোট ১৯টি সিনেমা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। এখান থেকে সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালকসহ বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিনেমাটির অন্যতম অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভেনিসের মতো বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে বাংলাদেশের একটি সিনেমার জায়গা করে নেওয়া শুধু একটি ছবির সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য গর্বের বিষয়। সিনেমাটিতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করলেও এই ঐতিহাসিক যাত্রার অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে সম্মানিত মনে করছেন।
নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন জানান, সিনেমাটি জমা দেওয়ার কিছুদিন পরই আয়োজকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন। তখন থেকেই নির্বাচিত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গল্প ও সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
‘হরাইজনস’ বিভাগ মূলত নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, ভিন্নধর্মী গল্প এবং আধুনিক চলচ্চিত্র ভাষায় নির্মিত সিনেমাগুলোর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে উদীয়মান নির্মাতাদের কাজকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে এই বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর নির্বাচন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে আরও পরিচিত করে তুলবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন করিম। এছাড়া সিনেমাটিতে রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল, শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম এবং মোহাম্মদ বারীসহ আরও অনেক পরিচিত অভিনয়শিল্পী। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।



























