নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে ৩ কোটি রুপির দেওয়ানি মানহানি মামলা করেছে ভারতের চার্টার্ড উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিউন্স এভিয়েশন। অভিযোগের সূত্রপাত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওকে ঘিরে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, একটি চার্টার্ড বিমানকে ‘খেলনা’ ও ‘লেগো বিমান’ হিসেবে বর্ণনা করে নোরা এমন মন্তব্য করেছেন, যা তাদের ব্যবসা ও সুনামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মামলাটি গুজরাটের গান্ধীনগরের আদালতে করা হয়েছে। তবে আদালতে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাই থেকে জয়পুর যাওয়ার সময় ডিউন্স এভিয়েশনের একটি সেসনা সাইটেশন সিজে২ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন নোরা। যাত্রার সময় বিমানের ভেতরের কিছু ভিডিও ধারণ করে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন তিনি। ওই ভিডিওতে বিমানটিকে ছোট বা ক্ষুদ্রাকৃতির বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘টয়’ এবং ‘লেগো বিমান’ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরে সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় আইনি জটিলতা।
নোরা ফাতেহির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ডিউন্স এভিয়েশনের দাবি, এত বড় অনুসারীভিত্তির কারণে তাঁর মন্তব্য দ্রুত বিপুল মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে, প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই না করে বিমান সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নোরার বক্তব্য ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। মামলায় এ ধরনের মন্তব্যকে কোম্পানির সুনাম ও ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিউন্স এভিয়েশন আরও দাবি করেছে, নোরার ভিডিও প্রকাশের পর তাদের ব্যবসায় দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে। কোম্পানির অভিযোগ অনুযায়ী, চার্টার্ড বিমানের বুকিং ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং বাতিলের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এর ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও গ্রাহকদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বুকিং কমে যাওয়ার সঙ্গে নোরার মন্তব্যের সরাসরি সম্পর্ক আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বিমানটির নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ডিউন্স এভিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নোরা যে সেসনা সাইটেশন সিজে২ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন, সেটি যাত্রার জন্য উপযুক্ত এবং উড্ডয়নের উপযোগী ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ অনুমোদিত এবং বৈধ নন-শিডিউলড অপারেটরস পারমিটের আওতায় পরিচালিত হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা মন্তব্যের কারণে যাত্রীদের মধ্যে বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মামলাটি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিউন্স এভিয়েশন ৩ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি বিতর্কিত বক্তব্যসংবলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়া এবং নোরার পক্ষ থেকে প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেওয়ারও আবেদন করেছে। গান্ধীনগরের সিনিয়র সিভিল জজ আর আগরওয়ালের আদালতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিষয়টির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নোরার মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আইনি বিতর্ক এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে বলিউড ও বিনোদন অঙ্গনের।
























