ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সিঙ্গার বাংলাদেশে দারুণ প্রত্যাবর্তন, লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরল Logo ১৯ বছরেই বাবা হচ্ছেন এনদ্রিক, ছেলের নাম নিয়ে চমক Logo রঙের বাজারে দারুণ উত্থান: ৬৫০০ কোটি টাকার শিল্পে নতুন সম্ভাবনা Logo ইত্যাদি লক্ষ্মীপুর: দারুণ আয়োজনে ফিরছে হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান Logo মেসির পারিবারিক ইতিহাসে বড় চমক, পূর্বপুরুষদের খোঁজ মিলল ব্রাজিলে Logo বিসিবির কোচ নিয়োগ পরীক্ষায় ২১৮ জনে মধ্যে পাস মাত্র ২০ জন Logo পাতার বাঁশরি গান: হৃদয়ছোঁয়া প্রেমের নতুন সুর কোক স্টুডিও বাংলায় Logo বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে জোড়া গোলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন নেইমারের Logo এন্দ্রিককে নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রিয়াল, থাকবেন নাকি ধারে যাবেন? Logo ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া, কোন দেশ কী বলল?

ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া, কোন দেশ কী বলল?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

নতুন শুল্ক আরোপের পর বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। । ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৮০টির বেশি দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে শুল্কের আওতায় থাকা বেশিরভাগ দেশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সিদ্ধান্তটিকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে।

অস্ট্রেলিয়া শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে দেওয়া অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল জানিয়েছেন, আধুনিক দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এই সিদ্ধান্তকে “অত্যন্ত হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

জাপানও ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, জাপানের শিল্প ও বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই পরিচালিত হয়। তাই জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে শুল্ক আরোপ দুঃখজনক।

চীন বরাবরের মতো একতরফা শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, শুল্কযুদ্ধ বা বাণিজ্যযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই লাভবান হয় না। আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

ভারতের বস্ত্র ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন শুল্কের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যেতে পারে, যা ভারতের রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তির কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প অতিরিক্ত শুল্কের বাইরে রয়েছে। ফলে ব্রিটিশ রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে, নতুন শুল্কনীতি আগের বাণিজ্য সমঝোতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। উৎপাদন, রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা আগামী কয়েক মাসেই স্পষ্ট হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও বৈশ্বিক বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর এই নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গার বাংলাদেশে দারুণ প্রত্যাবর্তন, লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরল

ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া, কোন দেশ কী বলল?

Update Time : ১০:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৮০টির বেশি দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে শুল্কের আওতায় থাকা বেশিরভাগ দেশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সিদ্ধান্তটিকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে।

অস্ট্রেলিয়া শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে দেওয়া অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল জানিয়েছেন, আধুনিক দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এই সিদ্ধান্তকে “অত্যন্ত হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

জাপানও ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, জাপানের শিল্প ও বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই পরিচালিত হয়। তাই জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে শুল্ক আরোপ দুঃখজনক।

চীন বরাবরের মতো একতরফা শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, শুল্কযুদ্ধ বা বাণিজ্যযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই লাভবান হয় না। আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

ভারতের বস্ত্র ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন শুল্কের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যেতে পারে, যা ভারতের রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তির কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প অতিরিক্ত শুল্কের বাইরে রয়েছে। ফলে ব্রিটিশ রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে, নতুন শুল্কনীতি আগের বাণিজ্য সমঝোতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। উৎপাদন, রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা আগামী কয়েক মাসেই স্পষ্ট হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও বৈশ্বিক বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর এই নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।