আইএসএস থেকে ফেরা নভোচারী দল অবশেষে পৃথিবীতে ফিরেছে সফলভাবে। আট মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS)-এ কাটানোর পর নাসার নভোচারী ক্রিস উইলিয়ামস এবং রাশিয়ার মহাকাশচারী সের্গেই কুদ-সভারচকভ ও সের্গেই মিকায়েভ বহনকারী সয়ুজ এমএস-২৮ মহাকাশযান নিরাপদে কাজাখস্তানের নির্ধারিত এলাকায় অবতরণ করেছে। প্যারাশুটের সহায়তায় মসৃণ অবতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দীর্ঘ ২৪১ দিনের এই মহাকাশ অভিযান।
এই আইএসএস থেকে ফেরা নভোচারী দলের জন্য মিশনটি ছিল স্মরণীয়। নাসার ক্রিস উইলিয়ামস এবং রুশ মহাকাশচারী সের্গেই মিকায়েভের এটি ছিল প্রথম মহাকাশ সফর। অন্যদিকে সের্গেই কুদ-সভারচকভ দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থান করে তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং স্টেশনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছেন।
অবতরণের পর তিন নভোচারীকে উদ্ধারকারী দল দ্রুত হেলিকপ্টারে করে কারাগান্ডা শহরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে নাসার নভোচারী ক্রিস উইলিয়ামস যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে ফিরবেন। অন্যদিকে দুই রুশ মহাকাশচারী নিজ দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্টার সিটিতে ফিরে যাবেন, যেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মিশন-পরবর্তী মূল্যায়ন করা হবে।
শীতল যুদ্ধের সময় মহাকাশ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ছিল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পরিচালনায় দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হলেও মহাকাশ গবেষণায় সেই সহযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুই দেশের নভোচারীরা একে অপরের মহাকাশযানে চড়ে নিয়মিত আইএসএস-এ যাতায়াত করছেন।
এদিকে সম্প্রতি নতুন আরেকটি আন্তর্জাতিক দল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছে। নাসার নভোচারী অনিল মেনন এবং রসকসমসের পিয়তর দুব্রভ ও আনা কিকিনা সয়ুজ মহাকাশযানে করে নতুন আট মাসের মিশন শুরু করেছেন। কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে উৎক্ষেপণের সময় নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান উপস্থিত ছিলেন, যা গত আট বছরে বাইকোনুরে কোনো নাসা প্রধানের প্রথম সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইএসএস থেকে ফেরা নভোচারী দলের সফল প্রত্যাবর্তন আবারও প্রমাণ করল, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতের চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিতেও এই ধরনের যৌথ মিশন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন শুধু গবেষণার কেন্দ্র নয়, বরং বৈশ্বিক সহযোগিতারও একটি অনন্য প্রতীক।



























