চন্দনাইশ প্রতিনিধি-মোঃ নুরুল আলম
আহমদ ছফার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চন্দনাইশ সাহিত্যিক আহমদ ছফা পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এতিমখানায় কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা এবং চারা গাছ বিতরণের মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপমহাদেশের অনন্য এই প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, কবি ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদের স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই স্থানীয় সর্বস্তরের সাহিত্যপ্রেমী জনগণ একযোগে দিনটি উদ্যাপন করেন।

স্মরণসভার প্রথম পর্বে সকালে দক্ষিণ গাছবাড়িয়া রহমানিয়া আহমদিয়া এ এস (স্বতন্ত্র) ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও হেফজখানায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ৪টায় গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মূল আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের সভাপতি ও স্বনামধন্য গবেষক শাহজাহান আজাদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. নুরুল আলমের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য অনুরাগীরা উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন চন্দনাইশ প্রেস ক্লাবের সম্মানিত সভাপতি সাংবাদিক আবিদুর রহমান বাবুল। সভার প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আইয়ুব মিয়া চৌধুরী এবং পুরো আয়োজনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন গাছবাড়িয়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মতিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ পাঠ করেন জনপ্রিয় লেখক মাজহার হেলাল, যিনি আহমদ ছফার বহুমুখী প্রতিভার নানা দিক তরুণ প্রজন্মের সামনে সহজ ভাষায় তুলে ধরেন।
আলোচনা পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন গাছবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আয়ুব আলী, ছড়াকার ছৈয়দ শিবলী ছাদেক কফিল, লেখক সুজা আল মামুন, সংগঠক মো. টিপু সুলতান এবং সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ ছাড়া শিক্ষক রনজিৎ কুমার দে, শিক্ষক আবদুল আজিজ, শিক্ষক বিজন চক্রবর্তী, শিক্ষক মোহাম্মদ হোছাইন শাহীন, হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ ওসমান গণি, সংগঠক জুবায়ের আজাদ, সংগীত শিক্ষক মো. গোলাম রহমান শাকিল মানিক ও শিক্ষার্থী মো. সাজিদসহ অসংখ্য সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে বক্তারা আলোকপাত করে বলেন, প্রখ্যাত মননশীল লেখক সাহিত্যিক আহমদ ছফার কালজয়ী রচনাবলী বাংলা ভাষার অমূল্য সম্পদ যা তরুণ সমাজকে চিন্তার খোরাক জোগায়। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ধারালো লেখনী মুক্তিকামী মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। ছফার মতো নির্ভীক বুদ্ধিজীবীর প্রজ্ঞা ও সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মুক্তবুদ্ধির চর্চায় ধাবিত করবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে সবসময় পথ দেখাবে।

সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা সর্বসম্মতিক্রমে সরকারের কাছে এক বিশেষ জাতীয় দাবি উত্থাপন করেন। তাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধে ও বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রখ্যাত এই কৃতিসন্তানকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কারে’ ভূষিত করার জোর আকুল আবেদন জানান। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালা সমাপ্ত হওয়ার পর উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয়দের মাঝে ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি ঘটে।





























