ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হাশিমপুর এম.এ.কে.ইউ স্কুল এন্ড কলেজে “শিক্ষার মান উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা ও প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা” অনুষ্ঠিত Logo নেইল পলিশ ছেড়ে জেল পলিশ কেন জনপ্রিয় হচ্ছে? Logo বরিশালে সাংবাদিক পুলকের মরদেহ, পাশে মিলল ৫ চিরকুট Logo কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বাড়ায় পানিবন্দী ৬০ হাজার মানুষ Logo নাচ নিয়ে অপমান, সেই কথাই ক্যাটরিনাকে বদলে দেয় Logo মুক্তির আগেই ৬০০ কোটি টাকার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করে রেকর্ড গড়ল ‘অ্যাভেঞ্জার্স ডুমসডে’ Logo নিলামে উঠছে প্রিন্সেস ডায়ানার সেই বিখ্যাত রিভেঞ্জ ড্রেস Logo সৌদি যুবরাজের হুথি হামলার অনুরোধ, ট্রাম্পের না Logo শনিবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় Logo মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের বৈঠক, জোর নৌপথ নিরাপত্তায়

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৩

"টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আতঙ্ক নয়, আগে বৈজ্ঞানিক যাচাই—গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান বিএসটিআইয়ের।

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগের মধ্যে জনগণকে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি বলেছে, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ও স্বাধীন পরীক্ষাগারের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্র্যান্ড সম্পর্কে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি। জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়। ভোক্তাদের মধ্যে নিরাপদ টুথপেস্ট ব্যবহারের বিষয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিএসটিআই জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে কসমেটিকস ও টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উৎপাদকদের জন্য ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময় দিয়েছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান স্বাস্থ্য উদ্বেগ হলেও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে এখনো বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে এবং আইএসও ও এএসটিএম-এর মতো আন্তর্জাতিক মান সংস্থাগুলোতেও টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিএসটিআই জানায়, দেশের প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্ট তৈরিতে অনুমোদিত ৮১টি কাঁচামালের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে কোনো উপাদান নেই। লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন, উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই এবং মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের উপাদান ব্যবহার করার সুযোগ খুবই সীমিত বলে সংস্থাটির দাবি।

এদিকে কাঁচামালের উৎস ও সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত দূষণের বিষয়টি যাচাই করতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পরীক্ষার পদ্ধতি এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যবহৃত উপাদানের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বিএসটিআই। পাশাপাশি বাজার ও কারখানা থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে স্বীকৃত স্বাধীন পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম, অনুমোদনহীন উপাদান বা মান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তথ্য ছাড়া কোনো ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ বা ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ, দন্ত চিকিৎসক, পরিবেশ অধিদফতর এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় মানদণ্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সঠিকভাবে দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই। এছাড়া টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও তা গিলে না ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাশিমপুর এম.এ.কে.ইউ স্কুল এন্ড কলেজে “শিক্ষার মান উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা ও প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা” অনুষ্ঠিত

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান

Update Time : ০২:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগের মধ্যে জনগণকে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি বলেছে, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ও স্বাধীন পরীক্ষাগারের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্র্যান্ড সম্পর্কে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি। জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়। ভোক্তাদের মধ্যে নিরাপদ টুথপেস্ট ব্যবহারের বিষয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  কক্সবাজারে ডোবা থেকে নারীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

বিএসটিআই জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে কসমেটিকস ও টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উৎপাদকদের জন্য ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময় দিয়েছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান স্বাস্থ্য উদ্বেগ হলেও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে এখনো বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে এবং আইএসও ও এএসটিএম-এর মতো আন্তর্জাতিক মান সংস্থাগুলোতেও টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন  শান্তি বিঘ্নিত হলে ছাড় নয়, কঠোর অবস্থানের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

বিএসটিআই জানায়, দেশের প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্ট তৈরিতে অনুমোদিত ৮১টি কাঁচামালের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক নামে কোনো উপাদান নেই। লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন, উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই এবং মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের উপাদান ব্যবহার করার সুযোগ খুবই সীমিত বলে সংস্থাটির দাবি।

এদিকে কাঁচামালের উৎস ও সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত দূষণের বিষয়টি যাচাই করতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পরীক্ষার পদ্ধতি এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যবহৃত উপাদানের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বিএসটিআই। পাশাপাশি বাজার ও কারখানা থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে স্বীকৃত স্বাধীন পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  কোটালীপাড়ায় মাঠে কাজের সময় বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম, অনুমোদনহীন উপাদান বা মান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তথ্য ছাড়া কোনো ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ বা ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ, দন্ত চিকিৎসক, পরিবেশ অধিদফতর এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় মানদণ্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সঠিকভাবে দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই। এছাড়া টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও তা গিলে না ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।