ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে কুকুর হত্যা: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিচার দাবি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৩

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে দুটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।(সংগৃহীত)

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার খাজা রোড এলাকায় দুটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হওয়ার পর প্রাণী অধিকারকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কুকুরকে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন দুই ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও কয়েকজন পুরো ঘটনাটি দাঁড়িয়ে দেখলেও কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি। ভিডিওতে আরেকটি কুকুরের নিথর দেহও দেখা যায়, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রাণী অধিকারকর্মীদের দাবি, ঘটনাটি গত ২২ জুলাই খাজা রোড এলাকায় ঘটে। তাদের অভিযোগ, লাঠি দিয়ে কুকুর দুটিকে আঘাতকারী ব্যক্তিরা স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রিদয় ও রাফি। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রাণী অধিকারকর্মীরা আরও বলেন, কোনো প্রাণীর প্রতি এমন নির্মম আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের ভাষ্য, সমাজে এ ধরনের সহিংসতা রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তারা জানতে চান, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখন পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তাদের মতে, প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী কোনো প্রাণীর ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রকাশ্যে এমনভাবে প্রাণী হত্যা করে পার পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে সেখানে কুকুরগুলোর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, কুকুর দুটি নাকি কয়েকজন শিশুকে কামড়েছিল এবং হাঁস-মুরগিরও ক্ষতি করেছিল।

এসআই মিজানুর রহমান আরও জানান, স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী এসব অভিযোগের কারণেই কুকুর দুটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। তবে ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি তদন্ত করে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলেও জানান।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণী কল্যাণ ও মানবিক আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা জনগণকে প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে কুকুর হত্যা: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিচার দাবি

Update Time : ০৫:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার খাজা রোড এলাকায় দুটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হওয়ার পর প্রাণী অধিকারকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কুকুরকে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন দুই ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও কয়েকজন পুরো ঘটনাটি দাঁড়িয়ে দেখলেও কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি। ভিডিওতে আরেকটি কুকুরের নিথর দেহও দেখা যায়, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রাণী অধিকারকর্মীদের দাবি, ঘটনাটি গত ২২ জুলাই খাজা রোড এলাকায় ঘটে। তাদের অভিযোগ, লাঠি দিয়ে কুকুর দুটিকে আঘাতকারী ব্যক্তিরা স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রিদয় ও রাফি। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রাণী অধিকারকর্মীরা আরও বলেন, কোনো প্রাণীর প্রতি এমন নির্মম আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের ভাষ্য, সমাজে এ ধরনের সহিংসতা রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তারা জানতে চান, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখন পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তাদের মতে, প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী কোনো প্রাণীর ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রকাশ্যে এমনভাবে প্রাণী হত্যা করে পার পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে সেখানে কুকুরগুলোর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, কুকুর দুটি নাকি কয়েকজন শিশুকে কামড়েছিল এবং হাঁস-মুরগিরও ক্ষতি করেছিল।

এসআই মিজানুর রহমান আরও জানান, স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী এসব অভিযোগের কারণেই কুকুর দুটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। তবে ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি তদন্ত করে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলেও জানান।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণী কল্যাণ ও মানবিক আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা জনগণকে প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।