ওজন কমানোর জন্য দিনে কত কদম হাঁটা দরকার এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চান অনেকেই। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটার লক্ষ্য বেশ জনপ্রিয়। তবে সত্যিই কি ওজন কমাতে এতটুকু হাঁটাই যথেষ্ট, নাকি আরও বেশি হাঁটা দরকার? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর উত্তর নির্ভর করে আপনার ওজন, খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ওপর।
নিয়মিত হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখে, ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে অতিরিক্ত চর্বি কমাতে ভূমিকা রাখে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, হাঁটার জন্য কোনো জিম বা দামি সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। পার্ক, রাস্তা কিংবা বাড়ির ছাদ যেকোনো জায়গাতেই এই অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ১ কেজি ওজন কমাতে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি করতে হয়। একজন সাধারণ মানুষ প্রতি ১ হাজার কদম হাঁটলে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ ক্যালোরি পর্যন্ত পোড়াতে পারেন। সেই হিসাবে শুধু হাঁটার মাধ্যমে এক সপ্তাহে ১ কেজি ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৭ হাজার কদম হাঁটার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি সবার জন্য বাস্তবসম্মত নয় এবং দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখাও কঠিন।
তাই বিশেষজ্ঞরা শুধু হাঁটার ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন। প্রতিদিন খাবার থেকে প্রায় ৫০০ ক্যালোরি কমানো গেলে ১২ থেকে ১৫ হাজার কদম হাঁটলেও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপও পড়ে না এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখা সহজ হয়।
হাঁটার সময় কিছু বিষয়েও নজর রাখা জরুরি। দ্রুত গতিতে হাঁটলে তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি পোড়ে। সুযোগ থাকলে ঢালু বা উঁচু পথে হাঁটতে পারেন। তবে প্রথম দিন থেকেই অনেক বেশি হাঁটার চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে কদমের সংখ্যা বাড়ানোই ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন বিশ্রাম নিলে শরীর দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়।
সব মিলিয়ে, ওজন কমানোর জন্য শুধু কদম গোনা নয়, বরং নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ না করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণই নয়, হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক শারীরিক ফিটনেসও বজায় থাকবে।





























