কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। দেশের প্রথম আইকনিক রেলস্টেশন হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটিকে শুধু ট্রেন ওঠানামার জায়গা হিসেবে না রেখে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে স্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ শনিবার (১ আগস্ট) কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার রেলস্টেশনের যাত্রীসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনই স্টেশনটি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে পরিচালনব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, যাত্রীদের জন্য সেবা কতটা সহজ হবে এবং স্টেশনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কীভাবে কাজে লাগানো যায়—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার রেলস্টেশনের বিশেষত্ব শুধু এর আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় নয়, এর স্থাপত্যেও রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। ঝিনুকের আদলে নির্মিত এই স্টেশন পর্যটননগরী কক্সবাজারে রেলযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এখানে উন্নত যাত্রীসেবা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে দেশের পর্যটন খাতের সঙ্গেও রেল যোগাযোগের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্টেশন পরিদর্শনের সময় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী যাত্রীসেবা, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান। স্টেশনটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই দিনে চকরিয়া স্টেশন পরিদর্শন করেও তিনি কক্সবাজারমুখী রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের অবস্থা ও যাত্রীসেবার মান পর্যবেক্ষণের কথা জানান। বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দরপত্রেও কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য প্রস্তাব আহ্বানের তথ্য রয়েছে।
তবে কক্সবাজার রেলস্টেশনকে ঘিরে শুধু ব্যবস্থাপনা নয়, পরিবেশগত বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে লাগানো গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। কোথাও ঘাটতি থাকলে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে তা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলওয়ে, বন বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে বনায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে কক্সবাজার রেলস্টেশনকে ঘিরে সরকারের নতুন পরিকল্পনা পর্যটন ও রেল যোগাযোগ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য সুবিধা, যাত্রীবান্ধব সেবা এবং রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এসব দিক বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
























