ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু: ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সুখবর Logo গ্যাসের দাম বাড়বে না: সুখবর জানাল পেট্রোবাংলা | Logo মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা: ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় ইতিবাচক বার্তা Logo সঞ্জয় দেবের সংগ্রাম: অবিশ্বাস্য পথচলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের কঠিন দিন Logo জুলাই অভ্যুত্থান: শক্তিশালী সংস্কার ও বিচার নিয়ে নতুন বার্তা Logo জিমি বাংলাদেশের মেসি: চমকপ্রদ মন্তব্য করলেন গেরহার্ড Logo বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা Logo ফুটবলে আগ্রহ কমছে: ৩৬% ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের খবরই রাখেন না | জরিপে চমক Logo কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে বড় সুখবর, আসছে নতুন ব্যবস্থাপনা Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাটিং ধস, বড় হারে শুরু বাংলাদেশের

কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে বড় সুখবর, আসছে নতুন ব্যবস্থাপনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪৪

কক্সবাজারের ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন | ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। দেশের প্রথম আইকনিক রেলস্টেশন হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটিকে শুধু ট্রেন ওঠানামার জায়গা হিসেবে না রেখে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে স্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ শনিবার (১ আগস্ট) কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার রেলস্টেশনের যাত্রীসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনই স্টেশনটি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে পরিচালনব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, যাত্রীদের জন্য সেবা কতটা সহজ হবে এবং স্টেশনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কীভাবে কাজে লাগানো যায়—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার রেলস্টেশনের বিশেষত্ব শুধু এর আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় নয়, এর স্থাপত্যেও রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। ঝিনুকের আদলে নির্মিত এই স্টেশন পর্যটননগরী কক্সবাজারে রেলযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এখানে উন্নত যাত্রীসেবা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে দেশের পর্যটন খাতের সঙ্গেও রেল যোগাযোগের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্টেশন পরিদর্শনের সময় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী যাত্রীসেবা, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান। স্টেশনটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই দিনে চকরিয়া স্টেশন পরিদর্শন করেও তিনি কক্সবাজারমুখী রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের অবস্থা ও যাত্রীসেবার মান পর্যবেক্ষণের কথা জানান। বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দরপত্রেও কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য প্রস্তাব আহ্বানের তথ্য রয়েছে।

তবে কক্সবাজার রেলস্টেশনকে ঘিরে শুধু ব্যবস্থাপনা নয়, পরিবেশগত বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে লাগানো গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। কোথাও ঘাটতি থাকলে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে তা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলওয়ে, বন বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে বনায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে কক্সবাজার রেলস্টেশনকে ঘিরে সরকারের নতুন পরিকল্পনা পর্যটন ও রেল যোগাযোগ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য সুবিধা, যাত্রীবান্ধব সেবা এবং রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এসব দিক বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু: ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সুখবর

কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে বড় সুখবর, আসছে নতুন ব্যবস্থাপনা

Update Time : ১০:৪৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। দেশের প্রথম আইকনিক রেলস্টেশন হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটিকে শুধু ট্রেন ওঠানামার জায়গা হিসেবে না রেখে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে স্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ শনিবার (১ আগস্ট) কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার রেলস্টেশনের যাত্রীসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনই স্টেশনটি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে পরিচালনব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, যাত্রীদের জন্য সেবা কতটা সহজ হবে এবং স্টেশনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কীভাবে কাজে লাগানো যায়—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  এপ্রিলে রেমিট্যান্সে জোয়ার, ৮ দিনেই এলো প্রায় ১০০ কোটি ডলার

কক্সবাজার রেলস্টেশনের বিশেষত্ব শুধু এর আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় নয়, এর স্থাপত্যেও রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। ঝিনুকের আদলে নির্মিত এই স্টেশন পর্যটননগরী কক্সবাজারে রেলযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এখানে উন্নত যাত্রীসেবা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে দেশের পর্যটন খাতের সঙ্গেও রেল যোগাযোগের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে ট্রেন চালকের সতকর্তায় রক্ষা পেল ট্রাক

স্টেশন পরিদর্শনের সময় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী যাত্রীসেবা, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান। স্টেশনটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই দিনে চকরিয়া স্টেশন পরিদর্শন করেও তিনি কক্সবাজারমুখী রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের অবস্থা ও যাত্রীসেবার মান পর্যবেক্ষণের কথা জানান। বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দরপত্রেও কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য প্রস্তাব আহ্বানের তথ্য রয়েছে।

তবে কক্সবাজার রেলস্টেশনকে ঘিরে শুধু ব্যবস্থাপনা নয়, পরিবেশগত বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে লাগানো গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। কোথাও ঘাটতি থাকলে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে তা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলওয়ে, বন বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে বনায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত: প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালাবে সরকার

সব মিলিয়ে কক্সবাজার রেলস্টেশনকে ঘিরে সরকারের নতুন পরিকল্পনা পর্যটন ও রেল যোগাযোগ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য সুবিধা, যাত্রীবান্ধব সেবা এবং রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এসব দিক বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।