ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বগুড়ার চার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাই-বোনের পাশে এমপি মোশারফ Logo পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে খাতায় লেখানোর অভিযোগ, তদন্তে রাজশাহী বোর্ড Logo চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন বোর্ড চেয়ারম্যান হলেন ইদ্রিস মিয়া Logo মানুষের আয় বাড়েনি, খরচ বেড়েছে তিনগুণ: হামিদুর রহমান Logo বাংলাদেশিদের ভিসা সহজ করতে ভিয়েতনামকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান Logo বিদেশি শিক্ষার্থী ও ব্যাকপ্যাকারদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম Logo সর্বজনীন পেনশনে সুখবর, বাড়ল মুনাফা ও নমিনির বয়সসীমা Logo হাসান-রবিনসনকে পেছনে ফেলে আইসিসির মাসসেরা দিনুশা Logo মেসিকে পেছনে ফেলে রাফিনিয়ার গোলঝড়, বার্সায় নতুন রেকর্ড Logo জাকির নায়েকের সঙ্গে আহমাদুল্লাহর সাক্ষাৎ, হাতে তুলে দিলেন নিজের বই

বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা

বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে গো আপ ফাউন্ডেশন। ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান বন্যা ত্রাণ কার্যক্রমে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংগঠন গো আপ ফাউন্ডেশন। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি ১০ দিনব্যাপী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে শত শত পরিবারের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির উপকরণ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পাহাড়ি গ্রামে প্রায় ৭৫৬টি পরিবার এই উদ্যোগের আওতায় আসে। তারাচা, ছ্যাংগা, বটতলী, গোয়েলাখোলা, ফজর আলী পাড়া, ব্রিগেড এলাকা, মুসলিম পাড়া, চড়ুই পাড়া, ভরাখালী ও লাঙ্গিপাড়াসহ মোট ২১টি গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরাই এসব সহায়তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।

খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়েছে গো আপ ফাউন্ডেশন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহযোগিতা এবং ইউনিসেফের দেওয়া হাইজিন কিট বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এসব কিটে ছিল স্যানিটারি ন্যাপকিন, সাবান, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ। পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকারও দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ খান জানান, দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শত শত পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। শুধু ত্রাণ বিতরণেই নয়, খুব শিগগিরই একটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসন নিয়েও কাজ শুরু করবে সংগঠনটি। তিনি সহযোগিতার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে বহু মানুষ চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক জায়গায় পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবুও মানুষের কষ্ট লাঘবের প্রত্যয়ে তরুণদের দল নিরলসভাবে কাজ করেছে। তাদের বিশ্বাস, মানবিক সহায়তার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বর্তমানেও বান্দরবানের কয়েকটি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। গো আপ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মানবিক কার্যক্রম চলবে। স্থানীয় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ার চার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাই-বোনের পাশে এমপি মোশারফ

বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা

Update Time : ১০:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান বন্যা ত্রাণ কার্যক্রমে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংগঠন গো আপ ফাউন্ডেশন। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি ১০ দিনব্যাপী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমে শত শত পরিবারের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির উপকরণ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পাহাড়ি গ্রামে প্রায় ৭৫৬টি পরিবার এই উদ্যোগের আওতায় আসে। তারাচা, ছ্যাংগা, বটতলী, গোয়েলাখোলা, ফজর আলী পাড়া, ব্রিগেড এলাকা, মুসলিম পাড়া, চড়ুই পাড়া, ভরাখালী ও লাঙ্গিপাড়াসহ মোট ২১টি গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরাই এসব সহায়তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন  মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্ষোভ: ১৭ কোটির ভবন এখন জঙ্গলবাড়ি

খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়েছে গো আপ ফাউন্ডেশন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহযোগিতা এবং ইউনিসেফের দেওয়া হাইজিন কিট বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এসব কিটে ছিল স্যানিটারি ন্যাপকিন, সাবান, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ। পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকারও দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

আরও পড়ুন  এক রাতেই কাটা ২৯৬টি আমগাছ, গ্রেফতার ইউপি সদস্য

গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ খান জানান, দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শত শত পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। শুধু ত্রাণ বিতরণেই নয়, খুব শিগগিরই একটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসন নিয়েও কাজ শুরু করবে সংগঠনটি। তিনি সহযোগিতার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে বহু মানুষ চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক জায়গায় পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবুও মানুষের কষ্ট লাঘবের প্রত্যয়ে তরুণদের দল নিরলসভাবে কাজ করেছে। তাদের বিশ্বাস, মানবিক সহায়তার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন  জ্বালানি নিরাপত্তা: শক্তিশালী পরিকল্পনায় শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুতের আশ্বাস

বর্তমানেও বান্দরবানের কয়েকটি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। গো আপ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মানবিক কার্যক্রম চলবে। স্থানীয় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।