ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

দেশের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কায় প্লাবিত সড়কের প্রতীকী ছবি

আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC)। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনের মধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া ধরলা নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং সোমেশ্বরী-ভুগাই-কংস অববাহিকার শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী—

  1. আগামী দুই দিন সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের সংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
  2. তৃতীয় দিনেও রংপুর বিভাগ ও উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
  3. অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদি বন্যায়—

  1. নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
  2. আমন ধানের বীজতলা ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হতে পারে।
  3. গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  4. মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
  5. নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—

  1. স্থানীয় প্রশাসন ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
  2. প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও টর্চলাইট প্রস্তুত রাখুন।
  3. গবাদিপশু নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নিন।
  4. শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে রাখুন।
  5. নদীতে অপ্রয়োজনীয় নৌযাত্রা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল এড়িয়ে চলুন।
  6. মোবাইল ফোন চার্জে রাখুন এবং জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

Update Time : ০৯:২৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC)। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনের মধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য

এছাড়া ধরলা নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং সোমেশ্বরী-ভুগাই-কংস অববাহিকার শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী—

  1. আগামী দুই দিন সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের সংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
  2. তৃতীয় দিনেও রংপুর বিভাগ ও উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
  3. অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরও পড়ুন  বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদি বন্যায়—

  1. নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
  2. আমন ধানের বীজতলা ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হতে পারে।
  3. গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  4. মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
  5. নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—

  1. স্থানীয় প্রশাসন ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
  2. প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও টর্চলাইট প্রস্তুত রাখুন।
  3. গবাদিপশু নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নিন।
  4. শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে রাখুন।
  5. নদীতে অপ্রয়োজনীয় নৌযাত্রা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল এড়িয়ে চলুন।
  6. মোবাইল ফোন চার্জে রাখুন এবং জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন।
আরও পড়ুন  ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে গরম