ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের আপত্তি, তবু এগোচ্ছে সরকার

নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের প্রস্তুতি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালের ১ জুলাই। এরপর শুধু বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন পে স্কেল ঘোষণা হয়নি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে গঠিত নবম জাতীয় পে কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুনর্নির্ধারণের বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  1. মূল বেতন (Basic Pay) বৃদ্ধি
  2. বিভিন্ন গ্রেডের বেতন বৈষম্য কমানো
  3. বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা পুনর্বিবেচনা
  4. নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা
  5. অবসর-পরবর্তী সুবিধা ও পেনশন কাঠামোর উন্নয়ন

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং এরপর কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার চায় আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর রাজস্ব ঘাটতি, বাজেটের চাপ ও ঋণ ব্যবস্থাপনার যে চাপ রয়েছে, তাতে এখনই নতুন পে স্কেল চালু করলে—

  1. সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে,
  2. বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে,
  3. আইএমএফ কর্মসূচির কিছু আর্থিক লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।

এ কারণে সংস্থাটি অন্তত দুই বছর পে স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সরকারের যুক্তি হলো—

  1. দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি।
  2. মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
  3. দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং সরকারি চাকরির আকর্ষণ বজায় রাখতে বেতন পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।
  4. সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ কর্মচারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকৃত হতে পারেন। তবে কারা নতুন স্কেলের আওতায় আসবেন এবং বেতন কতটা বাড়বে—তা গেজেট প্রকাশের পরই নিশ্চিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পে স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের আপত্তি, তবু এগোচ্ছে সরকার

Update Time : ১০:২২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালের ১ জুলাই। এরপর শুধু বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন পে স্কেল ঘোষণা হয়নি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে গঠিত নবম জাতীয় পে কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুনর্নির্ধারণের বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  1. মূল বেতন (Basic Pay) বৃদ্ধি
  2. বিভিন্ন গ্রেডের বেতন বৈষম্য কমানো
  3. বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা পুনর্বিবেচনা
  4. নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা
  5. অবসর-পরবর্তী সুবিধা ও পেনশন কাঠামোর উন্নয়ন
আরও পড়ুন  ১৬ জুলাই ‘শহীদ দিবস’ পালনের উদ্যোগ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং এরপর কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার চায় আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর রাজস্ব ঘাটতি, বাজেটের চাপ ও ঋণ ব্যবস্থাপনার যে চাপ রয়েছে, তাতে এখনই নতুন পে স্কেল চালু করলে—

  1. সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে,
  2. বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে,
  3. আইএমএফ কর্মসূচির কিছু আর্থিক লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।
আরও পড়ুন  নবম পে-স্কেলে বদলে যাচ্ছে বেতন কাঠামো, কোন গ্রেডে কত টাকা?

এ কারণে সংস্থাটি অন্তত দুই বছর পে স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সরকারের যুক্তি হলো—

  1. দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি।
  2. মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
  3. দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং সরকারি চাকরির আকর্ষণ বজায় রাখতে বেতন পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।
  4. সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন  বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে চাকরি: ৬৩৫ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ কর্মচারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকৃত হতে পারেন। তবে কারা নতুন স্কেলের আওতায় আসবেন এবং বেতন কতটা বাড়বে—তা গেজেট প্রকাশের পরই নিশ্চিত হবে।