দ্য ফিউরিয়াস সিনেমা মুক্তির পর থেকেই অ্যাকশনপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। যারা টানা রোমাঞ্চ, দুর্দান্ত মার্শাল আর্ট এবং চোখ ধাঁধানো লড়াই দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে দারুণ এক অভিজ্ঞতা। ছবিটির গল্প খুব বেশি জটিল নয়, বরং পুরো নির্মাণজুড়ে গুরুত্ব পেয়েছে অ্যাকশন, গতি এবং চমকপ্রদ কোরিওগ্রাফি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শককে উত্তেজনার মধ্যে রাখাই যেন নির্মাতার মূল লক্ষ্য।
প্রায় দুই ঘণ্টার সিনেমাটিতে এমন মুহূর্ত খুব কমই আছে, যখন কোনো না কোনো সংঘর্ষ চলছে না। পরিচালক কেনজি তানিগাকি মূলত অ্যাকশন কোরিওগ্রাফার হিসেবে পরিচিত। তাই অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারের পরিচিত গল্পকে তিনি ব্যবহার করেছেন শুধু একটি ভিত্তি হিসেবে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ওয়াং ওয়ে, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শি মিয়াও। কথা বলতে না পারা এই বাবার জীবন-মরণ লড়াই ছবির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
ছবির শুরুতে ট্রাককে ঘিরে কুংফুভিত্তিক লড়াই দিয়ে অ্যাকশনের সূচনা হয়। এরপর প্রতিটি দৃশ্য আগেরটির চেয়ে আরও বড়, দ্রুত এবং নির্মম হয়ে ওঠে। ক্যামেরার গতিশীল ব্যবহার, নিখুঁত সম্পাদনা এবং শক্তিশালী সাউন্ড ডিজাইন প্রতিটি আঘাতকে বাস্তবের মতো অনুভব করায়। ইলেকট্রনিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পুরো পরিবেশকে আরও তীব্র করে তোলে। ফলে টানা অ্যাকশন থাকলেও কোথাও একঘেয়েমি আসে না।
বাস্তবধর্মী লড়াইয়ের পাশাপাশি কিছু দৃশ্যে নির্মাতারা ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরঞ্জনের আশ্রয় নিয়েছেন। মোটরসাইকেলে বসে শিশুর হামলা কিংবা অসম্ভব কিছু স্টান্ট বাস্তবতার সীমা ছাড়ালেও সেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে বিনোদনমূলক ভঙ্গিতে। এতে হংকংয়ের ক্লাসিক মার্শাল আর্ট সিনেমার প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। যদিও কয়েকটি আবেগঘন দৃশ্য গল্পের গতি কিছুটা ধীর করে, তবে খুব দ্রুতই সিনেমা আবার মূল অ্যাকশনধারায় ফিরে আসে।
ছবির অন্যতম আকর্ষণ গুদামঘরের বিশাল লড়াইয়ের দৃশ্য। সেখানে ব্রায়ান লে অভিনীত হো চরিত্রটি বিশাল স্লেজহ্যামার হাতে হাজির হয়ে পুরো দৃশ্যকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। হাতুড়ি ঘিরে তৈরি হওয়া সংঘর্ষ, বরফের ভাস্কর্য ভেঙে পড়া এবং রুদ্ধশ্বাস কোরিওগ্রাফি দর্শকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে। একইভাবে শেষের পুলিশ স্টেশনের অ্যাকশন সিকোয়েন্সে উশু, জুডোসহ বিভিন্ন মার্শাল আর্টের সমন্বয় ছবিটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে দ্য ফিউরিয়াস সিনেমা শুধু একটি অ্যাকশন চলচ্চিত্র নয়, বরং নিখুঁত কোরিওগ্রাফি, শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল এবং উচ্চগতির নির্মাণশৈলীর একটি অনন্য উদাহরণ। গল্পে নতুনত্ব কম থাকলেও অ্যাকশন উপস্থাপনার কারণে এটি আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। যারা মার্শাল আর্ট ও টানা অ্যাকশনভিত্তিক সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে দেখার মতো একটি চলচ্চিত্র।
























