ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অবিশ্বাস্য রেকর্ড! নাথান থমাস বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হলেন Logo ম্রুণাল ঠাকুরের কঠোর সতর্কবার্তা: AI ডিপফেক অপব্যবহারে আইনি ব্যবস্থা Logo রিজভীর বিস্ফোরক দাবি: জনগণের পারমাণবিক শক্তিতে ফ্যাসিবাদের পতন Logo বিপজ্জনক গ্রহাণু প্রতিরোধ: বিজ্ঞানীদের শক্তিশালী নতুন পরিকল্পনা Logo টানা দুই সপ্তাহ নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে Logo টেলিগ্রাম অ্যাপ স্টোর: হঠাৎ উধাও, অবশেষে সামনে এলো বড় কারণ? Logo উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ: বাধা দূর, উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান Logo বিজিএমইএ-বিটিএমএ একসঙ্গে, ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য Logo কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকের বেশি কমল, আমদানিতে মিলল স্বস্তি Logo নোরা ফাতেহি বোনো সম্পর্ক: অবশেষে প্রেমের গুঞ্জনে স্পষ্ট জবাব দিলেন অভিনেত্রী

বিপজ্জনক গ্রহাণু প্রতিরোধ: বিজ্ঞানীদের শক্তিশালী নতুন পরিকল্পনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:২২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১২

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা একটি বিশাল গ্রহাণুর কল্পচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

বিপজ্জনক গ্রহাণু নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা মহাকাশ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। পৃথিবীর দিকে যদি কখনও বিশাল আকৃতির কোনো গ্রহাণু ধেয়ে আসে এবং সতর্ক হওয়ার সময় খুবই কম থাকে, তাহলে সেটিকে প্রতিহত করার কার্যকর উপায় কী হতে পারে—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একটি কৌশলের কথা জানিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে মানবজাতিকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চীনের একদল মহাকাশ বিজ্ঞানী। তাদের সিমুলেশনভিত্তিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বড় আকারের গ্রহাণুর গভীরে বিশেষভাবে স্থাপন করা পারমাণবিক ডিভাইস বিস্ফোরণ ঘটালে সেটির গঠন ভেঙে ফেলা অথবা গতিপথ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে। গবেষকদের মতে, গ্রহাণুর ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে শক্তির প্রভাব বাইরের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হয়।

বিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অতীতেও বিশাল গ্রহাণুর আঘাতে পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং অসংখ্য প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে পৃথিবীর কাছাকাছি নিয়মিত অনেক গ্রহাণু অতিক্রম করলেও সবগুলোর অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ফলে কোনো অজানা গ্রহাণু হঠাৎ পৃথিবীর দিকে এগিয়ে এলে সতর্ক হওয়ার সময় কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

এর আগে নাসার ডার্ট মিশনের মাধ্যমে একটি গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের সফল পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে গবেষকদের মতে, খুব বড় আকারের গ্রহাণু কিংবা অল্প সময়ের সতর্কতার ক্ষেত্রে শুধু ধাক্কা দিয়ে গতিপথ পরিবর্তনের কৌশল যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিমুলেশন পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুর গভীরে শক্তিশালী পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হলে সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরণের গভীরতা যত বেশি হবে, গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের কার্যকারিতাও তত বাড়বে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট গভীরতায় বিস্ফোরণ ঘটানো গেলে বড় আকারের গ্রহাণুকেও পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

যদিও এই প্রযুক্তি এখনো বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়নি, তবুও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এটি ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। পৃথিবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই গ্রহাণু শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি হলে, সম্ভাব্য গ্রহাণু হুমকির মোকাবিলা করা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

অবিশ্বাস্য রেকর্ড! নাথান থমাস বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হলেন

বিপজ্জনক গ্রহাণু প্রতিরোধ: বিজ্ঞানীদের শক্তিশালী নতুন পরিকল্পনা

Update Time : ১২:২২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বিপজ্জনক গ্রহাণু নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা মহাকাশ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। পৃথিবীর দিকে যদি কখনও বিশাল আকৃতির কোনো গ্রহাণু ধেয়ে আসে এবং সতর্ক হওয়ার সময় খুবই কম থাকে, তাহলে সেটিকে প্রতিহত করার কার্যকর উপায় কী হতে পারে—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একটি কৌশলের কথা জানিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে মানবজাতিকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চীনের একদল মহাকাশ বিজ্ঞানী। তাদের সিমুলেশনভিত্তিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বড় আকারের গ্রহাণুর গভীরে বিশেষভাবে স্থাপন করা পারমাণবিক ডিভাইস বিস্ফোরণ ঘটালে সেটির গঠন ভেঙে ফেলা অথবা গতিপথ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে। গবেষকদের মতে, গ্রহাণুর ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে শক্তির প্রভাব বাইরের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হয়।

আরও পড়ুন  অন্ধ মানুষ কি শুধু অন্ধকার দেখেন? বিজ্ঞানের চমকপ্রদ ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অতীতেও বিশাল গ্রহাণুর আঘাতে পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং অসংখ্য প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে পৃথিবীর কাছাকাছি নিয়মিত অনেক গ্রহাণু অতিক্রম করলেও সবগুলোর অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ফলে কোনো অজানা গ্রহাণু হঠাৎ পৃথিবীর দিকে এগিয়ে এলে সতর্ক হওয়ার সময় কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ জিতলে চাঁদে যাবে অফিসিয়াল ফুটবল!

এর আগে নাসার ডার্ট মিশনের মাধ্যমে একটি গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের সফল পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে গবেষকদের মতে, খুব বড় আকারের গ্রহাণু কিংবা অল্প সময়ের সতর্কতার ক্ষেত্রে শুধু ধাক্কা দিয়ে গতিপথ পরিবর্তনের কৌশল যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিমুলেশন পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুর গভীরে শক্তিশালী পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হলে সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরণের গভীরতা যত বেশি হবে, গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের কার্যকারিতাও তত বাড়বে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট গভীরতায় বিস্ফোরণ ঘটানো গেলে বড় আকারের গ্রহাণুকেও পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

আরও পড়ুন  টাইগারদের বীরোচিত লড়াই, ৭ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো অস্ট্রেলিয়া

যদিও এই প্রযুক্তি এখনো বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়নি, তবুও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এটি ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। পৃথিবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই গ্রহাণু শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি হলে, সম্ভাব্য গ্রহাণু হুমকির মোকাবিলা করা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।