ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ আগস্ট কেন ‘৩৬ জুলাই’?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৬:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪২

আন্দোলনকারীদের কাছে ৫ আগস্টই ছিল ‘৩৬ জুলাই’। ছবি: সংগৃহীত

৩৬ জুলাই—শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই নামটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ক্যালেন্ডারে দিনটি ছিল ৫ আগস্ট, কিন্তু আন্দোলনকারীদের কাছে সেটিই ছিল ‘৩৬ জুলাই’। এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে টানা আন্দোলন, আত্মত্যাগ এবং একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির গল্প।

২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। শুরুতে এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট দাবিভিত্তিক কর্মসূচি। তবে সময়ের সঙ্গে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় এবং এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এটি ধীরে ধীরে গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়।

১৬ জুলাই আন্দোলনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর আন্দোলনকারীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট কোটা ব্যবস্থায় সংস্কারের নির্দেশ দিলেও আন্দোলন থেমে যায়নি। কারণ, তখন আন্দোলনের মূল দাবি আরও বিস্তৃত হয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যায়।

আন্দোলনকারীদের ভাষায়, জুলাই শেষ হয়নি। তাদের যুক্তি ছিল, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস চলতেই থাকবে। তাই আগস্টের প্রতিটি দিনকেও তারা জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণনা করেন। সেই হিসাবেই ১ আগস্ট ছিল ৩২ জুলাই, ২ আগস্ট ৩৩ জুলাই, ৩ আগস্ট ৩৪ জুলাই, ৪ আগস্ট ৩৫ জুলাই এবং ৫ আগস্ট হয়ে যায় ‘৩৬ জুলাই’।

৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের বিজয় উদ্‌যাপন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের কাছে দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিন নয়, বরং তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের সফল পরিণতি। তাই তারা ৫ আগস্টকে ‘৩৬ জুলাই’ এবং অনেকেই ‘নতুন স্বাধীনতার দিন’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

আজ ৩৬ জুলাই শুধু একটি প্রতীকী তারিখ নয়; এটি আন্দোলনের ধারাবাহিকতা, আত্মত্যাগ এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতার প্রতীক। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নামটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও গণআন্দোলনের আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ আগস্ট কেন ‘৩৬ জুলাই’?

Update Time : ০৮:৩৬:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

৩৬ জুলাই—শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই নামটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ক্যালেন্ডারে দিনটি ছিল ৫ আগস্ট, কিন্তু আন্দোলনকারীদের কাছে সেটিই ছিল ‘৩৬ জুলাই’। এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে টানা আন্দোলন, আত্মত্যাগ এবং একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির গল্প।

২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। শুরুতে এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট দাবিভিত্তিক কর্মসূচি। তবে সময়ের সঙ্গে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় এবং এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এটি ধীরে ধীরে গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  এখনই অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নেই: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

১৬ জুলাই আন্দোলনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর আন্দোলনকারীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট কোটা ব্যবস্থায় সংস্কারের নির্দেশ দিলেও আন্দোলন থেমে যায়নি। কারণ, তখন আন্দোলনের মূল দাবি আরও বিস্তৃত হয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যায়।

আন্দোলনকারীদের ভাষায়, জুলাই শেষ হয়নি। তাদের যুক্তি ছিল, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস চলতেই থাকবে। তাই আগস্টের প্রতিটি দিনকেও তারা জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণনা করেন। সেই হিসাবেই ১ আগস্ট ছিল ৩২ জুলাই, ২ আগস্ট ৩৩ জুলাই, ৩ আগস্ট ৩৪ জুলাই, ৪ আগস্ট ৩৫ জুলাই এবং ৫ আগস্ট হয়ে যায় ‘৩৬ জুলাই’।

আরও পড়ুন  টেকনাফে বিজিবির টহল জোরদার

৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের বিজয় উদ্‌যাপন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের কাছে দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিন নয়, বরং তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের সফল পরিণতি। তাই তারা ৫ আগস্টকে ‘৩৬ জুলাই’ এবং অনেকেই ‘নতুন স্বাধীনতার দিন’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  বাঁধনকে নিয়ে ফারুকীর ক্ষোভ, প্রশ্ন তুললেন সরকার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়ে

আজ ৩৬ জুলাই শুধু একটি প্রতীকী তারিখ নয়; এটি আন্দোলনের ধারাবাহিকতা, আত্মত্যাগ এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতার প্রতীক। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নামটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও গণআন্দোলনের আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখিত হবে।